ডিআরএসের খরচ আইসিসি বহন করবে না কেন ? প্রশ্ন স্টার্কের

ডিআরএসের খরচ আইসিসি বহন করবে না কেন ? প্রশ্ন স্টার্কের

ক্রিকেটে ডিআরএসের খরচ আইসিসি বহন করবে না কেন? এমন প্রশ্ন তুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্ক। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে যে অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে অ্যাশেজ সিরিজে-তা এড়াতে সব ম্যাচে অভিন্ন সরবরাহকারীর প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত।

ডিআরএস (DRS) কি ?

ক্রিকেট খেলায় DRS এর পূর্ণরূপ হলো Decision Review System (ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম)। এটি একটি প্রযুক্তি-ভিত্তিক ব্যবস্থা যা আম্পায়ারদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সঠিক কি না তা যাচাই করতে ব্যবহৃত হয় । 

ডিআরএস কীভাবে কাজ করে

১. রিভিউ চাওয়া: মাঠের আম্পায়ারের কোনো সিদ্ধান্তে যেমন- আউট বা নট আউট সন্তুষ্ট না হলে খেলোয়াড়রা রিভিউ চাইতে পারেন। ব্যাটার বা ফিল্ডিং দলের অধিনায়ককে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে আম্পায়ারের কাছে রিভিউয়ের সংকেত (হাত দিয়ে ‘T’ চিহ্ন) দিতে হয় ।
২. তৃতীয় আম্পায়ার: রিভিউ চাওয়ার পর মাঠের আম্পায়ার বিষয়টি তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে পাঠান।
৩. ব্যবহৃত প্রযুক্তি: তৃতীয় আম্পায়ার সিদ্ধান্ত নিতে কয়েকটি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেন:

৪. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: সব তথ্য যাচাই করে তৃতীয় আম্পায়ার মাঠের আম্পায়ারকে সংকেত দেন তার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে নাকি পরিবর্তন করতে হবে

ক্রিকেটে ডিআরএস বা এডিআরএস যেভাবে কাজ করে , ছবি: সংগৃহীত

চলমান অ্যাশেজ সিরিজজুড়ে রিয়েল টাইম স্নিকো (আরটিএস) ব্যবহার করে নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড-দু’দলই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। অ্যাডিলেড টেস্টে এসে সেই অসন্তোষ চরমে পৌঁছায়। প্রথম দিনের সেঞ্চুরিয়ান অ্যালেক্স ক্যারির একটি আউটের সিদ্ধান্ত ভুলভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের সকালে ইংল্যান্ডের একটি রিভিউ পুনর্বহাল করেন ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো।

রিয়েল টাইম স্নিকো (আরটিএস) , ছবি: সংগৃহীত

বিবিজি স্পোর্টস

স্নিকোর সরবরাহকারী বিবিজি স্পোর্টস স্বীকার করে নেয়, অপারেটরের ভুলের কারণেই ওই ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছিল। দ্বিতীয় দিনের আরেকটি ঘটনায় স্টাম্প মাইকে স্টার্ককে বলতে শোনা যায়, ‘স্নিকোকে বাদ দেওয়া উচিত।’

এই ভুলের প্রেক্ষিতে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) আইসিসির কাছে তাদের প্রোটোকল ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি পর্যালোচনার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে চায়। আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হবে-স্বাগতিক সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোকেই কেন এই প্রযুক্তির খরচ বহন করতে হয়। স্টার্কের মতে, পুরো প্রক্রিয়াটিই কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হওয়া দরকার।

এছাড়া স্টার্ক বলেন,

আমি নিশ্চিত, এটা সবার জন্যই হতাশাজনক-দর্শক, ম্যাচ অফিসিয়াল, সম্প্রচারকারী-সবার জন্য। আমি শুধু নিজের পক্ষ থেকে বলছি , অফিশিয়ালরাই তো এটি ব্যবহার করেন, তাই না? তাহলে আইসিসি কেন এর খরচ দেয় না? আর সব জায়গায় কেন একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় না? সব সিরিজে যদি একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, তাহলে হয়তো বিভ্রান্তি ও হতাশা কমবে। এটাই আমার বক্তব্য।

বর্তমানে আইসিসির অনুমোদিত ‘সাউন্ড-ভিত্তিক এজ ডিটেকশন প্রযুক্তি’র দুটি সরবরাহকারী রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহৃত হয় আরটিএস, আর বিশ্বের বাকি অংশে ব্যবহৃত হয় আল্ট্রাএজ। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং তৃতীয় টেস্ট চলাকালীন বলেন, আম্পায়াররা আরটিএসের ওপর ‘ভরসা করতে পারেন না’ এবং তার মতে আল্ট্রাএজ তুলনামূলকভাবে ভালো।

যদিও বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) আল্ট্রাএজ ব্যবহার করা হয়, তবে সিরিজের মাঝপথে প্রযুক্তি পরিবর্তনের কোনো বিধান নেই। ফলে মেলবোর্ন ও সিডনিতে অনুষ্ঠিতব্য শেষ দুই টেস্টেও আরটিএসই ব্যবহার করা হবে।

Exit mobile version