ক্রিকেটের বাইবেল খ্যাত উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাকের বর্ষসেরা ক্রিকেটার হয়েছেন মিচেল স্টার্ক ও দিপ্তি শার্মা। সারা বছর একজন ছিলেন বল হাতে ক্ষুরধার। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ জয়ের নায়ক তিনি। আরেকজন ব্যাটে-বলে ছিলেন উজ্জ্বল।
ভারতের বিশ্বকাপ জয়ে যার ছিল বড় ভূমিকা। সেই দুজন পেলেন অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি। ছেলেদের ক্রিকেটে উইজডেনের ‘লিডিং ক্রিকেটার ইন দা ওয়ার্ল্ড মনোনীত হলেন মিচেল স্টার্ক, মেয়েদের ক্রিকেটে দিপ্তি শার্মা।
ক্রিকেটের বাইবেল খ্যাত উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাকের ২০২৫ সালের সংস্করণ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে বুধবার। ক্রিকেটের অনেক ইতিহাসের প্রামাণ্য দলিল এই অ্যালমানাকের ১৬৩তম সংস্করণ এটি। নতুন সংস্করণ প্রকাশের আগে ঘোষণা করা হয় সেরাদের নাম।
এবার উইজডেনের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও দারুণ মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি ‘বর্ষসেরা পাঁচ ক্রিকেটার-এর তালিকায় এবার চারজনই ভারতের- শুবমান গিল, রাভিন্দ্রা জাদেজা, রিশাভ পান্ত ও মোহাম্মাদ সিরাজ।। তাদের সঙ্গী ইংলিশ ব্যাটসম্যান হাসিব হামিদ।
পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে ২০০৩ সাল থেকে। এই সম্মান পাওয়া পঞ্চম অস্ট্রেলিয়ান স্টার্ক। তার আগে এটি পেয়েছেন রিকি পন্টিং, শেন ওয়ার্ন, মাইকেল ক্লার্ক ও প্যাট কামিন্স। স্টার্ক গত বছর ১১ টেস্টে উইকেট নিয়েছেন ৫৫টি। এর মধ্যে ছিল কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯ রানে ৬ উইকেট, যা ছিল তার ক্যারিয়ার সেরা। সেটি ছাড়িয়ে যান পরের টেস্টেই। পার্থে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শিকার করেন ৫৮ রানে ৭ উইকেট, অ্যাশেজের যেটি ছিল প্রথম টেস্ট।
ক্যারিয়ারের ৩৬ বছর বয়সেও অসাধারণ বোলিংয়ে অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার চোট-জর্জর বোলিং আক্রমণকে নেতৃত্ব দেন তিনি এবং ম্যান অব দা সিরিজ হন ৩১ উইকেট নিয়ে ও ১৫৬ রান করে। দিপ্তি শার্মা ব্যাটে-বলে দীপ্তি ছড়ান উইমেন’স বিশ্বকাপে।
ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে অবদান রাখেন তিনি অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে। ব্যাট হাতে ২১৫ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ২২ উইকেট নিয়ে প্লেয়ার অব দা টুর্নামেন্ট ছিলেন তিনিই। ফাইনালে ৫৮ বলে ৫৮ রান করার পর শিকার করেন তিনি ৫ উইকেট।
এছাড়া লিডিং উইমেন’স ক্রিকেটার স্বীকৃত দেওয়া হচ্ছে ২০১৪ সাল থেকে। ভারতের হয়ে দিপ্তির আগে এটি জিতেছেন মিতালি রাজ ও দুই দফায় স্মৃতি মান্ধানা। উইজডেনের মূল আকর্ষণ এখনও বর্ষসেরা পাঁচ ক্রিকেটার। ১৮৮৯ সাল থেকে এই স্বীকৃতি দিয়ে আসছে তারা। প্রথম দুবার ছয় ক্রিকেটারকে দেওয়া হলেও পরের বছর থেকে তা নামিয়ে আনা হয় পাঁচ ক্রিকেটারে, যা চলছে এখনও।
মূলত ইংলিশ গ্রীষ্মে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করা ক্রিকেটারদের বিবেচনায় নেওয়া হয় পাঁচ বর্ষসেরার বাছাইয়ে। একাধিকবার এই স্বীকৃতি দেওয়া হয় না কাউকে।
গত বছরের ইংল্যান্ড সফরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সেরা পাঁচে দাপট দেখিয়েছেন ভারতীয়রা। শেষ টেস্টে তার অসাধারণ বোলিংয়েই রোমাঞ্চকর জয়ে সিরিজ ড্র করে ভারত। চার ভারতীয়র সঙ্গে থাকা একমাত্র ইংলিশ হাসিব হামিদ গত বছর কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে নটিংহ্যামশায়ারের শিরোপা জয়ে রাখেন বড় অবদান। দুটি ডাবল সেঞ্চুরি, আরও দুটি সেঞ্চুরিতে ১ হাজার ২৫৮ রান করেন তিনি ৬৬ গড়ে।
গিল জিতেছেন আরও একটি পুরস্কার। বর্ষসেরা টেস্ট পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি ‘উইজডেন ট্রফি ফর আউটস্ট্যান্ডিং ইন্ডিভিজুয়াল টেস্ট পারফরম্যান্স’ পেয়েছেন তিনি। গত ইংল্যান্ড সফরে এজবাস্টন টেস্টে ২৬৯ ও ১৬১ রানের দুটি ইনিংস তাকে এনে দিয়েছে এই সম্মান। ক্রিকেটের আইন প্রণেতা সংস্থা এমসিসির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ২০২৩ সাল থেকে সেরা টেস্ট পারফরম্যান্সকে আলাদা করে এই স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
