ইউটিউবের সঙ্গে বিশ্বকাপ ফুটবল প্রচারের জন্য চুক্তি করেছে ফিফা। এর আগে টিকটকের সঙ্গে গত জানুয়ারি মাসে ফিফা একই ধরণের চুক্তি করে। মূলত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বব্যাপি আরও বেশি মানুষের কাছে ফুটবলকে পৌঁছে দিতে চায় তারা।
এর ফলে বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ত্ব নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ভিডিও প্ল্যাটফর্মটিতে সরাসরি ম্যাচের অংশবিশেষ দেখাতে পারবে। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তরুণ দর্শকদের কাছে সহজেই পৌঁছানোর সুযোগ করে দেবে ফুটবল বিশ্বকাপকে। ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে আজ ফিফার সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মটি।
ইউটিউবের সঙ্গে চুক্তি গেম-চেঞ্জিং পার্টনারশিপ
ফিফা এটিকে ‘গেম-চেঞ্জিং পার্টনারশিপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশ্ব ফুটবলের এই সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বিশ্বকাপে ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট সম্প্রচারে উৎসাহিত করা হবে স্বত্ত্বধারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। মূলত এটি হবে একধরনের ‘টিজার’, যা তরুণদের আগ্রহ বাড়িয়ে পরে টিভির মতো প্রচলিত মাধ্যমে পুরো ম্যাচ দেখতে উদ্বুদ্ধ করবে।

ফিফা আরও জানিয়েছে, ‘সম্প্রচারস্বত্ত্বধারীরা তাদের ইউটিউব চ্যানেলে বাছাই করা কিছু ম্যাচ পুরোটা সরাসরি দেখাতে পারবে। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের সম্পৃক্ত করা এবং প্রতিযোগিতার বাকি ম্যাচ কোথায় দেখা যাবে, সেটিও প্রচার করা সম্ভব হবে।’
এই চুক্তিতে আর্থিক মূল্যের বিষয়ে কিছু জানায়নি ফিফা। ইউটিউবে নিজেদের বিশ্বকাপ আর্কাইভের কিছু অংশ শেয়ার করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ফিফা। তারা বলেছে,‘যার মধ্যে থাকবে অতীতের ম্যাচ ও ফুটবল ইতিহাসের আরও অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত।’
ফুটবল বিশ্বকাপ এবার যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ফিফার নিম্নস্তরের স্পন্সর ছিল ইউটিউব। সে চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ‘ক্রিয়েটররা মাঠে উপস্থিত থেকে ফিফা বিশ্বকাপের নেপথ্যের দারুণ সব মুহূর্ত ধারণ করবে।’ এবার ইউটিউব প্ল্যাটফর্মকে বেশ বড় পরিসরেই ব্যবহার করতে যাচ্ছে ফিফা।
আসন্ন জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে মোট ম্যাচ সংখ্যা ১০৪টি। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বিশ্বকাপে সর্বাধিক ৪৮টি দেশ অংশ নেবে। এ টুর্নামেন্টে ‘বিশ্বজুড়ে ইউটিউব ক্রিয়েটরদের অভূতপূর্ব প্রবেশাধিকার’ দেবে ফিফা।

এর আগে গত জানুয়ারিতে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের সঙ্গে সুদৃঢ় এক সমঝোতায় গেছে। বিশেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্যই এই চুক্তিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেখানে টিকটক একটি প্রধান অংশীদার হিসেবে থাকবে এবং ভক্তদের জন্য পর্দার পেছনের দৃশ্য, বিশ্বব্যাপী নির্মাতাদের প্রোগ্রাম এবং সামগ্রীর প্রবেশাধিকার দেবে। টিকটকের মাধ্যমে মূলত বিশ্বকাপের বিভিন্ন শর্ট ভিডিও প্রচার করা হবে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩
















