জাপানের নারী ফুটবল দল যেন অস্ট্রেলিয়া নারী দলের শিরোপার পথে বিষকাঁটা! আজও এএফসি নারী এশিয়ান কাপে শিরোপা জিততে পারেনি অজি মেয়েরা। ঘরের মাঠে ৮০ হাজার দর্শকের সমর্থন পেয়েও ফাইনালে জাপানের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে তারা। ফলে নারী এশিয়ান কাপে চারবারের রানার্সআপ অস্ট্রেলিয়া নারী দল জাপানের কাছেই ফাইনালে হারল তৃতীয়বার!
২০০৬ সালে প্রথমবার এএফসি নারী এশিয়ান কাপে ফাইনাল খেলে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা চীনের কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায়। তবে ২০১০ সালের আসরে উত্তর কোরিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা জয় করে অজি মেয়েরা। কিন্তু ২১০৪ ও ২০১৮ সালে পরপর দুই আসরে জাপানের কাছে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হয় অস্ট্রেলিয়া।
গত ৫টি এএফসি নারী এশিয়ান কাপে চারবারই ফাইনাল খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ সবচেয়ে ধারাবাহিক দল তারা। এবার ঘরের মাটিতে মোক্ষম সুযোগ পায় তারা দ্বিতীয়বার এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মুকুট ছিনিয়ে নেওয়ার। কিন্তু আবারও সামনে বিষকাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে জাপানই।

সিডনিতে আজ অনুষ্ঠিত ফাইনালে কানায়-কানায় পূর্ণ মাঠে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার জন্য ছিল অকুণ্ঠ সমর্থন ও চিৎকার। কিন্তু সিডনিতে শুনশান নিরবতা এনে দেন জাপানের মাইকা হামানো ম্যাচের ১৭ মিনিটেই। সবই ছিল অস্ট্রেলিয়ার অনুকূলে। কিন্তু হামানো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছেন।
নারী এশিয়ান কাপে জাপানের সাফল্য
খেলার শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে উঠলেও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায় প্রথমার্ধেই। ১৭ মিনিটের সময় জাপানের উদীয়মান তারকা মাইকা হামানো বক্সের বাম প্রান্ত থেকে এক দুর্দান্ত কোণাকুণি শটে বল জালে জড়ান (১-০)। অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক ম্যাকেঞ্জি আর্নল্ড ঝাঁপিয়েও সেই গতিময় শট আটকাতে পারেননি। এই একটি গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়।

পিছিয়ে পড়ার পর ঘরের মাঠে নিজ দর্শকদের সমর্থন নিয়ে মরিয়া হয়ে লড়েছে অস্ট্রেলিয়া। স্তব্ধতা ভেঙে স্বাগতিক মেয়েদের উৎসাহ দিয়ে উজ্জীবিত রাখতে জোর সমর্থন দিয়েছেন হাজার হাজার দর্শক। দলের অন্যতম সেরা তারকা স্যাম খের বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগও পেয়েছিলেন। কিন্তু জাপানের রক্ষণভাগ ভেদ করে গোল আদায় করা সম্ভব হয়নি।
ম্যাচের শেষ দিকে ভ্যান এগমন্ডের একটি জোরালো শট জাপানি ডিফেন্ডাররা ব্লক করলে সমতায় ফেরার শেষ সুযোগটিও হাতছাড়া হয় স্বাগতিকদের। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে মাত্র একটি গোল হজম করা জাপান ফাইনালেও দেখিয়েছে তাদের রক্ষণভাগের সামর্থ্য। বিশেষ করে দলনেতা সাকি কুমাগাইয়ের নেতৃত্বে জাপানি ডিফেন্ডাররা স্যাম খের এবং ক্যাটলিন ফোর্ডদের খুব একটা জায়গা নিতে দেননি। গোলরক্ষক ইয়ামাশিতাও গোলপোস্টের নিচে ছিলেন দুর্দান্ত।
জাপান নারী দল এবার নিয়ে তৃতীয়বার নারী এশিয়ান কাপে শিরোপা জিতল। এই আসরে উত্তর কোরিয়া ও চাইনিজ তাইপের সাথে যৌথভাবে দ্বিতীয় সেরা সাফল্য তারা পেয়েছে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে। কারণ সর্বাধিক চারবার রানার্সআপ ও রেকর্ড পাঁচবার তৃতীয় হয়েছে তারা। ১৬টি আসরে অংশ নিয়ে প্রতিবারই অন্তত সেমিফাইনাল খেলেছে জাপানের মেয়েরা।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩

















