টফিতে দেখা যাবে বিশ্বকাপ ফুটবলের সব খেলা

ফুটবল বিশ্বকাপের ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব বা ডিজিটাল ব্রডকাস্টিং রাইটস লাভ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিকম অপারেটর বাংলালিংক এবং তাদের

টফিতে দেখা যাবে বিশ্বকাপ ফুটবলের সব খেলা

দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এল বিশাল সুখবর। আসন্ন ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব বা ডিজিটাল ব্রডকাস্টিং রাইটস লাভ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিকম অপারেটর বাংলালিংক এবং তাদের জনপ্রিয় ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্ল্যাটফর্ম ‘টফি’ (Toffee)। এর ফলে বাংলাদেশের কোটি কোটি ফুটবল অনুরাগী কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি নিজেদের স্মার্টফোন, ট্যাব বা ডিজিটাল ডিভাইসে বিশ্বকাপের প্রতিটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ লাইভ উপভোগ করতে পারবেন।

আজ বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান।

ডিজিটাল স্বত্ব পাওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তাইমুর রহমান বলেন, “বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো বৈশ্বিক ও জনপ্রিয় টুর্নামেন্টের ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এর মাধ্যমে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য খুব সহজে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা দেখার একটি দারুণ সুযোগ তৈরি হলো। বাংলালিংকের গ্রাহকসহ দেশের সর্বস্তরের দর্শকরা টফি প্ল্যাটফর্মে এবারের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সরাসরি দেখতে পাবেন।” কাতার বিশ্বকাপের সময়ও টফিতে খেলা দেখার ক্ষেত্রে ফুটবলপ্রেমীদের উপচে পড়া সাড়া মিলেছিল, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

🌎 ৪৮ দলের মহাযজ্ঞ ও সময়সূচি

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে মাঠে গড়াবে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। আগামী ১৯ জুলাই ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে ৩৯ দিনব্যাপী এই ফুটবল মহোৎসবের। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো ৩২ দলের পরিবর্তে অংশ নিতে যাচ্ছে সর্বমোট ৪৮টি দেশ। দল বাড়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সংখ্যা এবং উত্তেজনা দুই-ই এবার বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

💰 স্বত্ব কিনতে কেন হিমশিম খাচ্ছে টিভি চ্যানেলগুলো?

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে খেলা দেখার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও, দেশের ঐতিহ্যবাহী টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে খেলা দেখা যাবে কি না—তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। জানা গেছে, বাংলাদেশে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের (টেলিভিশন ও অন্যান্য মাধ্যম) জন্য ফিফার অনুমোদিত বিপণন সংস্থাগুলো প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ মার্কিন ডলার দাবি করেছে, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১৫০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

এর সাথে সরকারের উচ্চ কর (Tax), অগ্রিম আয়কর (AIT) এবং ভ্যাট (VAT) যুক্ত হলে সম্প্রচার স্বত্ব কেনার মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের বিপরীতে বিজ্ঞাপন থেকে আয় তুলে আনা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আর এই বিশাল অর্থনৈতিক সমীকরণের কারণেই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) কিংবা দেশের অন্য কোনো বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এখন পর্যন্ত এককভাবে এই চুক্তিতে সম্মত হতে পারেনি।

📺 বিকল্প ভাবনায় স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো

টেলিভিশন স্বত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া এই অচলাবস্থা নিরসনে অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কীভাবে ব্যয় কিছুটা সংকোচন করে দেশে টেলিভিশনে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে নীতিগত আলোচনা চলছে।

বর্তমানে দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এককভাবে ঝুঁকি না নিয়ে যৌথ কনসোর্টিয়াম বা জোট গঠনের মাধ্যমে স্বত্ব কেনার বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালাচ্ছে। টিভি চ্যানেলগুলোর এই আলোচনা সফল হলে দেশের মানুষ ডিজিটাল ডিভাইসের পাশাপাশি ড্রয়িংরুমে বসে টেলিভিশনের বড় পর্দায়ও বিশ্বকাপের আমেজ উপভোগ করতে পারবেন। তবে টেলিভিশন নিয়ে আলোচনা যে প্রান্তেই ঠেকুক না কেন, ‘টফি’র কল্যাণে ডিজিটাল স্ক্রিনে খেলা দেখা নিয়ে দর্শকদের আর কোনো দুশ্চিন্তা রইল না।

Exit mobile version