এবার ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন জাসপ্রিত বুমরাহ। কিন্তু বিশ্বকাপ জিতিয়ে বুমরাহ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছেন। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) কেন্দ্রীয় চুক্তির কাঠামোগত বড় পরিবর্তনের জন্য ক্রিকেটারদের আয়ে তারতম্য ঘটবে। তাই বিশ্বকাপ জিতিয়ে বুমরাহ বছরে প্রায় দুই কোটি রুপি কম আয় করতে পারেন।
ঘরের মাঠে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। প্রথম দল হিসেবে টানা দুই আসরে টি-২০ বিশ্বকাপ জেতা একমাত্র দল তারা। সর্বাধিক তৃতীয়বার এই ফরম্যাটের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দলটি। এর পেছনে বড় অবদান রাখেন পেসার বুমরাহ। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নিয়েছেন।
টুর্নামেন্ট জুড়েই বুমরাহ ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেছেন। আট ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। কিন্তু বিশ্বকাপ জিতিয়ে বুমরাহ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন। বিসিসিআইয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তার এই আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপ জিতিয়ে বুমরাহ যেভাবে ক্ষতির মুখে
বিসিসিআই সম্প্রতি তাদের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সর্বোচ্চ ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি বাতিল করেছে। আগে এই ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটাররা বছরে ৭ কোটি রুপি পেতেন। এই তালিকায় ছিলেন বুমরাহ। এই সিনিয়র ক্রিকেটারদের কেউ কেউ নির্দিষ্ট ফরম্যাট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বুমরাহই কার্যত একমাত্র সব ফরম্যাটে নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরির দাবিদার ছিলেন।
কিন্তু নতুন কাঠামোয় সেই স্তরটি তুলে দেওয়ায় তাঁকে এখন ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে, যেখানে বার্ষিক পারিশ্রমিক ৫ কোটি রুপি—অর্থাৎ আগের তুলনায় ২ কোটি রুপি কম। অবশ্য এই কাঠামোটি চূড়ান্ত নয় বলেই জানা গেছে। বিসিসিআইয়ের ভেতরে চুক্তি কাঠামো পুনর্বিবেচনার আলোচনা চলছে। বিশেষ করে, সব ফরম্যাটে দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে যেন আর্থিক মূল্যায়ন যথাযথ হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বুমরাহর মতো ক্রিকেটারের আয় কমে যাওয়া নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। এদিকে এই পরিবর্তন শুধু বুমরাহ নয়, আরও কয়েকজন ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন এখনও নিচের ‘সি’ ক্যাটাগরিতে আছেন, যদিও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন।
চুক্তির এই পরিবর্তনে সাময়িক আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা থাকলেও ভবিষ্যতে সংশোধিত কাঠামো বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে তা পুষিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাটি ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য একটি বড় প্রশ্নও দেখা দিয়েছে যে, দলের কাঠামো বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কীভাবে খেলোয়াড়দের ন্যায্য আর্থিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে।
