টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৯ বছর পর আবার সাক্ষাত। ফলাফল আগের মতোই পক্ষে থাকল জিম্বাবুয়ের। আজ অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে হওয়া ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ২ উইকেটে ১৬৯ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া ১৯.৩ ওভারে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায়।
টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে জিম্বাবুয়ে বেশ ভালো শুরু পায়। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৪৭ রান তুলে দেন ব্রায়ান বেনেট ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি। ৬১ রানের জুটি ভেঙে যায় অষ্টম ওভারে মারুমানি ২১ বলে ৭ চারে ৩৫ রানে বিদায়ের মাধ্যমে।
এরপর রায়ান বার্লের সঙ্গে আরও ৭০ রানের জুটি গড়েন ধীরস্থির বেনেট। ৩০ বলে ৪ বাউন্ডারিতে বার্ল ৩৫ রানে বিদায় নেন। তবে বেনেট হাফ সেঞ্চুরি করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। শেষ ৪ ওভারে তিনি আর সিকান্দার রাজা অবিচ্ছিন্ন থেকে ৩৮ রান যোগ করেন।
২০ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। বেনেট ৫৬ বলে ৭ চারে ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন। রাজাও ১৩ বলে ২ চার, ১ ছয়ে ২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। মারকাস স্টয়নিস ও ক্যামেরন গ্রিন একটি করে উইকেট নেন।
মুজারাবানি-ইভান্সের পেসে বিপর্যস্ত অজি ব্যাটাররা
জবাবে প্রথম থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা ব্যর্থতা দেখান। ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্সের পেসে নাজেহাল হয়েছেন অজি টপঅর্ডাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট খুইয়েছে তারা। মাত্র ২৯ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পেড়ে অস্ট্রেলিয়া।
পঞ্চম উইকেটে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাট রেনশ ৭৭ রানের জুটি গড়ে অজিদের জয়ের আশা জাগিয়ে তোলেন। কিন্তু ৩২ বলে ১ চার, ১ ছয়ে ৩১ রান করা ম্যাক্সওয়েলকে বোল্ড করে রায়ান বার্ল জিম্বাবুয়েকে আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন।
রেনশ একাই লড়াই করেছেন। অন্যপ্রান্তে নেমেছে ধস। মাত্র ৪০ রানে শেষ ৬টি উইকেট হারিয়ে অজিরা ৩ বল বাকি থাকতে গুটিয়ে যায় ১৪৬ রানে। রেনশ ৪৪ বলে ৫ চার, ১ ছয়ে ৬৫ রানে ১৯তম ওভারে সাজঘরে ফেরেন। মুজারাবানি চার ওভারে ১৭ রানে ৪টি ও ইভান্স ৩.৩ ওভারে ২৩ রানে ৩টি উইকেট নেন।
২০০৭ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে ৫ উইকেটে জিতেছিল। আর কোনো টি-২০ বিশ্বকাপে দুই দলের সাক্ষাত হয়নি। ১৯ বছর পর আবার মোকাবেলায় জিতল জিম্বাবুয়েই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে- ১৬৯/২; ২০ ওভার (বেনেট ৬৪*, মারুমানি ৩৫, বার্ল ৩৫, রাজা ২৫*; গ্রিন ১/৬, স্টয়নিস ১/১৭)।
অস্ট্রেলিয়া- ১৪৬/১০; ১৯.৩ ওভার (রেনশ ৬৫, ম্যাক্সওয়েল ৩১, হেড ১৭; মুজারাবানি ৪/১৭, ইভান্স ৩/২৩)।
ফল : জিম্বাবুয়ে ২৩ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : ব্লেসিং মুজারাবানি।
