ভারত সফরে সিরিজের প্রথম টেস্টে তিনদিনেই হেরে গেছে ওয়েস্টইন্ডিজ। এই সিরিজের আগে নেপালের মতো আইসিসির সহযোগী সদস্য দলের কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সব মিলিয়ে এক সময়কার মহাপরাক্রমশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন মান হারিয়ে তলানিতে ঠেকেছে। যা পীড়া দিচ্ছে দেশটির সাবেক ক্রিকেটারদের। ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের মূলেই সমস্যা দেখছেন অনেকেই।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট ক্রিকেটের অবনতির বিষয়টি তুলে ধরে বলেছেন, এটি ‘অনেক দিন ধরেই চলতে থাকা একটি প্রক্রিয়া। সমস্যার মূলটি এমন এক ‘ক্যানসার’ যা সিস্টেমের ভেতরেই বসে গেছে।
ক্যারিবীয়রা এখন ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ভারতে অবস্থান করছে। সিরিজের প্রথম টেস্টে তারা ইনিংস ও ১৪০ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে। দুই ইনিংসের একটিতেও তারা দুইশ করতে পারেনি। এমনকি বল হাতে ভারতের মাত্র ৫টি উইকেট শিকার করত পেরেছে। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে এমন ফলাফল অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। যারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের সোনালী যুগ দেখেছেন, তাদের কাছে এই পতন ভীষণ বেদনাদায়ক। স্যামি নিজেও সে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি জানি, এখন আমি পর্যবেক্ষণের মধ্যে আছি। সবাই সমালোচনা করবে, আমরাও তার মধ্যে আছি। কিন্তু সমস্যার মূল শুরু হয়েছে আজ বা দুই বছর আগে নয়। এটা বহু আগে থেকেই চলছে। এটা এক ধরনের ক্যানসার, যা সিস্টেমের ভেতর ঢুকে গেছে। আপনি জানেন, ক্যানসার যদি চিকিৎসা না করা হয়, তার পরিণতি কী হয়। এখন আবার ব্রেস্ট ক্যানসার মাস চলছে, তাই উদাহরণটা বেশ মানানসই—আমাদের সমস্যাগুলো উপরের দিকে নয়, গভীরে শেকড় গেড়ে বসেছে।’
টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের উত্থানের সাথে সাথে টেস্ট ক্রিকেটের অবকাঠামো ক্রমে দুর্বল হয়েছে, যা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।’স্যামির ভাষায়, ‘আমরা কেবল যা আছে, এবং যারা ইচ্ছুক তাদের নিয়েই কাজ করতে পারি। বিশ্বের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে না পারাটাই আমাদের বড় সমস্যা। আমি ছেলেদের সবসময় বলি-আমরা যদি অভিযোগ করি যে, আমাদের কাছে সেরা সুবিধা নেই, যথেষ্ট জনবল নেই, অন্যদের মতো আধুনিক প্রযুক্তি নেই-এসব কোনো গোপন বিষয় নয়। সবাই জানে, অন্য দলগুলো আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে।’
স্যামি বলেন, ‘আমরা এক জায়গায় চার মাস ধরে পাঁচটা টেস্ট খেলতাম, সারা বিশ্বের দর্শকদের বিনোদন দিতাম, অথচ অন্য বোর্ডগুলো সেখান থেকে আর্থিকভাবে উপকৃত হতো। এখন আমাদের সেই আর্থিক সম্পদেরই প্রয়োজন, যাতে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।’
মূল সমস্যার প্রসঙ্গে স্যামি বলেন, `বিশ্বের শীর্ষ ৩–৪ দলের সঙ্গে নিচের দিকের চার দলের পার্থক্যটাই সবচেয়ে বড়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থাভাবের সঙ্গে লড়ছি।’
উল্লেখ্য, (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট মাঠে গড়াবে। এরপর তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে ক্যারিবীয়রা।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩

















