দল নির্বাচনের ক্ষমতা পাচ্ছেন বিভাগীয় নির্বাচনকরা। দীর্ঘ দিন ধরে অনেক আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে বিভাগীয় দল নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিবর্তনের ঘোষণা দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি। বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্সের প্রথম দিন শেষে রোববার বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন,‘আগামী মৌসুম থেকে বিভাগীয় দল বাছাই হবে সরাসরি বিভাগ থেকেই।
এতদিন বয়সভিত্তিক দল থেকে প্রথম শ্রেণীর লিগ, সবকিছুর নির্বাচনী সিদ্ধান্ত হতো বিসিবিতে বসেই। জাতীয় স্কোয়াড বাছাই, পারফরম্যান্স মূল্যায়ন, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ দেখা, এত কাজ সামলাতে গিয়ে মাঠপর্যায়ে প্রতিভা খোঁজার জায়গাটা ফাঁকা পড়ে যাচ্ছিল। সেই শূন্যতাই সামনে পূরণ করার ঘোষণা দিলেন বিসিবি সভাপতি।
তিনি বলেন,‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে সিদ্ধান্তটা নিয়েছি… সম্ভবত এ বছরই শেষবার, আমরা বিভাগ থেকে বিভাগীয় দলের খেলোয়াড় মিরপুর থেকে নির্বাচন করছি। এনসিএল, বিসিএল বা যুব প্রিমিয়ার লিগ, এই টুর্নামেন্টগুলোর খেলোয়াড় নির্বাচন সামনে সম্পূর্ণ বিভাগ থেকেই হবে। বিভাগীয় নির্বাচকরাই সেটা করবেন। আমাদের মনে হয়েছে এই সিদ্ধান্তের জন্য আজকের দিনটা ফলপ্রসূ সময়।’
একই সাথে দেশের সব জেলার ক্রিকেট প্রেসিডেন্ট, জেলা ক্রীড়া অফিসার, জেলার ক্রিকেট কোচ, জেলার নারী উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে দুই দিনের এই ক্রিকেট কনফারেন্স চলছে। রোববার প্রথম দিনে সেই কনফারেন্স থেকে বিসিবি কর্তারা শুনেছেন নানা অভিযোগ, পরামর্শ, অভিজ্ঞতা, সুপারিশ। আলোচনার পর আসে কাঠামো বদলের সিদ্ধান্ত।
তবে বিভাগ থেকে বিভাগীয় দল নির্বাচনে কিছু সমস্যার উদ্ভবও হবে নিশ্চিতভাবেই। সেসব সমাধানের সম্ভাব্য পথও ঠিক করে রাখছে বিসিবি।
তিনি বলেন,‘বিভাগীয় নির্বাচকরা সঠিকভাবে খেলোয়াড় নির্বাচন করছে, এটা দেখভাল করবে কে? প্রশ্নটা যুক্তিসঙ্গত। এখন যে নির্বাচনটা হয়, সেটা করে পেশাদার জাতীয় নির্বাচকরা। তাদের কাজ স্বচ্ছ। তবে এটাও ঠিক, তারাও মানুষ। তারা হয়তো জানে না পঞ্চগড়ে একটা বাঁহাতি লেগ স্পিনার আছে, বা বরিশালে নতুন একজন ভালো ব্যাটার উঠেছে। এজন্যই আমরা স্টেজ টু করছি। স্টেজ ওয়ান ছিল আজকের কনফারেন্স।’
বুলবুল বলেন,‘স্টেজ টুতে আমরা ছোট ছোট বিসিবি অফিস তৈরি করব। সেখানে থাকবে হেড অব চট্টগ্রাম ক্রিকেট, হেড অব রংপুর ক্রিকেট। যে লোক দায়িত্ব নেবে, তার রেফারেন্স, প্রক্রিয়া আর বিচারবোধের ওপরই নির্বাচনের মান নির্ভর করবে। এসব প্রক্রিয়া আমরা ঠিক করে ফেলব।’
তবে শঙ্কার একটি জায়গা নিয়েও কড়া ভাষায় সতর্কতা জানিয়ে রাখলেন সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেন,‘যিনি জেলার কোচ, তার নিজের একাডেমি আছে। তখন তো স্বার্থের সংঘাত তৈরি হবে। এটা রোধে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। জেলা বা বিভাগীয় কোচরা হয় একাডেমি চালাবেন, না হয় জেলা কোচিং করবেন, দুটো একসঙ্গে নয়।’
তিনি আরও বলেন,‘এটাও সত্য, বর্তমান বেতনে শুধুই ক্রিকেট পেশায় টিকে থাকা কঠিন। আমরা কোচদের বেতন কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছি। বাড়ানো গেলে তারা জেলা ও বিভাগীয় কাজে আরও মনোযোগী হবে।’
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩

















