প্রথমার্ধ গোলশূন্য। দ্বিতীয়ার্ধও শেষের পথে। কিন্তু ইনজুরি সময়ের চতুর্থ মিনিটে গোল হজম করতে হয় বাংলাদেশকে। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার পর ইনজুরির কারণে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গোল করেন প্যালেস্টাইনের মিলাদ জিয়াদ। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার শিষ্যরা।
ফিফা র্যাঙ্কিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৮৬ধাপ এগিয়ে থাকা প্যালেস্টাইন ২১ মার্চের ম্যাচে কুয়েতের মাটিতে বাংলাদেশকে ৫-০ গোলে হারিয়েছিলো। কিন্তু আগের চার ম্যাচে কিংস অ্যারেনায় অপরাজিত থাকা বাংলাদেশ এদিন চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
ইনজুরির কারণে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে সফরকারী দল গোল (১-০) পেয়ে যায়। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে লাল কার্ড দেখেন প্যালেস্টাইনের আহমেদ মাহাজনেহ।
ম্যাচের ৯০তম মিনিটে আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। সেসময় স্ট্রাইকার রাকিব প্যালেস্টাইন গোলরক্ষকের ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যান। তাকে জোর করে তুলেতে গিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে লাল কার্ড দেখেন আহমেদ মাহাজনেহ।
১০জনের প্যালেস্টাইন গোল পায় এর দুই মিনিট পরই। মিকাইল তেরমানিনি বক্সের মধ্যে আনমার্কড ছিলেন। আগুয়ান গোলরক্ষক মেহেদী শ্রাবণকে কোন সুযোগ না দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। ৮৩তম মিনিটে মিতুল ব্যাথা পেয়ে মাঠ ছাড়লে বদলি হিসেবে শ্রাবণ মাঠে নামেন।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে বাংলাদেশই গোলের বেশি সুযোগ পেয়েছিলো। কিন্তু স্ট্রাইকার ফয়সাল আহমেদ ফাহিমে গোলের জোড়া সুযোগ নষ্ট করেন।
ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে জামাল ভূঁইয়ার পাস থেকে বল পেয়ে ফাহিম যে শট নেন তা প্যালেস্টাইনের গোলরক্ষক রামি হামাদার গালে লেগে ফিরে আসে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জোড়া গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি প্যালেস্টাইন। ৪৮তম মিনিটে শাকিল ভুল পাস দিয়ে দাবাগকে বল দিয়ে দেন। কিন্তু ফাকা জাল মিস করেন আগের ম্যাচের হ্যাটট্রিক করা এই স্ট্রাইকার। এর দশ মিনিট পর মিতুল মার্মা অসাধারণ দক্ষতায় দাবাগকে গোলবঞ্চিত করেন।
৭০তম মিনিটে বাংলাদেশ কোচ দুটি পরিবর্তন করান। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের জায়গায় খেলতে নামেন রফিকুল ইসলাম ও জুনিয়র সোহেল রানা।
৮৪তম মিনিটে গোলরক্ষক মিতুল ব্যাথা পেয়ে মাঠ ছাড়লে সে জায়গায় শ্রাবণকে মাঠে নামানো হয়। পরে আরও একটা পরিবর্তন আসে বাংলাদেশের একাদশে। ৮৯তম মিনিটে মিডফিল্ডার মজিবর জনিকে তুলে নিয়ে ডিফেন্ডার ইসা ফয়সালকে মাঠে নামনো হয়।
তবুও শেষ রক্ষা হয়নি বাংলাদেশ শিবিরে। শেষ মুহুর্তের গোলে পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় স্বাগতিক দলকে।
বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ে বাংলাদেশের এটি ছিলো চতুর্থ ম্যাচে। ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭-০ গোলের পরাজয় নিয়ে দেশে ফিরলেও ২১ নভেম্বর কিংস অ্যারেনার ম্যাচে লেবাননের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ১-১ গোলে ড্র করে ক্যাবরেরার শিষ্যরা।
গত ২১ মার্চ প্যালেস্টাইনের বিপক্ষে ৫-০ গোলের পরাজয়ের পর ফিরতি ম্যাচে হারলো ১-০ গোলে।
‘আই’-গ্রুপে চার ম্যাচের সবগুলোতেই জয় পাওয়া অস্ট্রেলিয়া ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। সমান ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্র নিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে প্যালেস্টাইন। আর দুই ড্র থেকে দুই পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে লেবানন। এক পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানীতে বাংলাদেশ।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩




















