জয় দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু পর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হতাশ করল বাংলাদেশের টপ অর্ডার। দলের বিপদের দিনে জাকের-শামীমের রেকর্ড জুটিতে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৯ রান তুলেছে বাংলাদেশ। গতকাল আবু ধাবীর জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যেন আসা-যাওয়ার মিছিলে নেমেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। একের পর এক উইকেট হারানো দলটি ইনিংসের মাঝপথে এসে ভীষণ বিপদে পড়ে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই হতাশ করেন দুই ওপেনার। বাজে ব্যাটিংয়ে দলীয় শুণ্য রানে বিদায় নেন তামিম ও পারভেজ। ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফিরলেন তানজিদ হাসান। উড়িয়ে মারার চেষ্টায় বিপদ ডেকে আনেন বাংলাদেশ এই ওপেনার। কিছুটা সুইং করা বলের লাইন মিস করেন বোল্ড!
পরের ওভারে তানজিদের পথ ধরে রানের খাতা খোলার আগে ড্রেসিং রুমে ফিরলেন আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেন। দুশমান্থা চামিরার করা ডেলিভারিতে ড্রাইভ করেন পারভেজ। বল ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে কিপার কুসাল মেন্ডিসের হাতে। দুই ওভারে কোনো রান তুলতে না পারা বাংলাদেশ হারাল দুই ওপেনারকে।
এরপর লিটন দাসের সঙ্গী হয়ে নতুন জীবন পেয়েও সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেনি তাওহিদ হৃদয়। সহজ ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়ার পরের বলেই রান আউটে কাটা পড়লেন তিনি। ৯ বলে ৮ রান করে তিনি। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে অল্পের জন্য বাঁচলেন লিটন। দাসুন শানাকার বাড়তি লাফিয়ে ওঠা বলটি লিটনের ব্যাটের কানায় লেগে যায় স্লিপ ফিল্ডারের কাছে। সামনে লাফিয়েও বলের নাগাল পাননি ফিল্ডার।
৬ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে টাইগাররা। অস্টম ওভারে বিপদ আরও বাড়িয়ে বিদায় নেন শেখ মেহেদি হাসান। লেগ স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা বলে এলিবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়েন ৭ বলে ৯ রান করেন।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসা-যাওয়ার মিছিলে এরপর যোগ দেন অধিনায়ক লিটন। দশম ওভারের পঞ্চম বলে ২৬ বলে ১৮ রান করে বিদায় নেন তিনি। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে রিভার্স সুইপ করতে ব্যর্থ হন লিটন। বল লিটনের গ্লাভস ছুঁয়ে কুশল মেন্ডিসের গ্লাভসে জমা পড়ে। ১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ৫ উইকেট হারিয়ে ৫৪ রান। লিটনের বিদায়ের এক বল আগে অল্পের জন্য বেঁচে যান জাকের আলি। বল স্টাম্পে লাগলেও পড়েনি বেলস। তখন ৬ রানে খেলছিলেন জাকের।
অল্পতে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়া বাংলাদেশের হাল ধরলেন জাকের আলি ও শামীম হোসেন। তাদের ব্যাটে ১৬ ওভারে একশ স্পর্শ করল দলটির রান।
অধিনায়কের বিদায়ের পর রেকর্ড গড়া জুটিতে দলকে টানলেন শামীম হোসেন ও জাকের আলি। তাদের চল্লিশ ছোঁয়া দুটি ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে ১৪০ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ।
৩৪ বলে দুই চারে ৪১ রানে অপরাজিত জাকের। ৩৪ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় শামীম করেছেন ৪২ রান। তাদের অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেটে ৮৬ রান এসেছে ৬১ বলে। টি-টোয়েন্টিতে ষষ্ঠ উইকেটে যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। ২০২২ সালে দুবাইয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহানের অবিচ্ছিন্ন ৮১ ছিল এই উইকেটে আগের সেরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩৯/৫
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩














