এ যেনো এক গোলবন্যার ম্যাচ উপভোগ করলো বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। সাফ অনূর্ধ্ব ২০ এর এবারের আসরে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা কে উড়িয়ে দিলো ৯-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে। শুরুর একদশে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ৮ জন খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্তে বেশ ভালোই ফল পেয়েছেন কোচ পিটার বাটলার।
শ্রীলঙ্কার জালে দ্বিতীয় মিনিটেই সরাসরি ফ্রি কিক থেকে প্রথম গোলটি করেন স্বপ্না রানী। স্বপ্নার পর একে একে গোল উৎসবে মাতেন মুনকি-সাগরিকারা।
খেলা শুরুর পর থেকেই আক্রমণাত্মক খেলায় পুরো মাঠে আধিপত্য বিস্তার করে বাংলাদেশ। মুনকির ৫ম মিনিটে ২য় গোলের পর একাধিক সুযোগ পেলেও জালে বল জড়াতে পারেননি বাংলাদেশের মেয়েরা। ৩৭ তম মিনিটে ব্যবধান ৩-০ তে বাড়ান ফরওয়ার্ডের মোসাম্মাৎ সাগরিকা। অবশ্য ৩৮ এবং ৪৫ তম মিনিটে দুই গোল করলেও অফসাইডের কারণে জন্য তা বাতিল হয়ে যায়।
প্রথমার্ধের বাতিল গোলগুলো শোধ করতেই যেন দ্বিতীয়ার্ধে গোলবন্যা শুরু করে মেয়েরা। ম্যাচের ৪৭, ৪৯ ও ৫২ তম মিনিটে একে একে গোল করেন মুনকি আক্তার, সিনহা জাহান শিখা ও সাগরিকা। ৬-০ তে এগিয়ে যাওয়ার পরও গোলক্ষুধা কমেনি বাটলার শিষ্যদের। ৫৭ তম মিনিটে পূজা দাসের ক্রসে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাগরিকা।
শেষ দিকে রুপা আক্তার এবং শান্তি মার্ডি স্কোরলাইন ৯–০–তে নিয়ে যান। পুরো ম্যাচ জুড়ে বাংলাদেশের আ্যাটাক সামলাতেই ব্যস্ত ছিলো শ্রীলঙ্কা। নামে মাত্র কয়েকটি সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি দলটি। অতিরিক্ত সময়ে একটি সান্ত্বনার গোল করে সম্মান রক্ষা করেন লঙ্কান ফুটবলার লাইয়ানশিকা।
সাগরিকার হ্যাটট্রিক, মুনকি আক্তারের দুই এবং স্বপ্না রানী, শিখা, রূপা আক্তার এবং শান্তি মার্ডির একটি করে গোলে ম্যাচের ফল দাঁড়ায় ৯-১। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই গোল উৎসবের মধ্য দিয়েই যেনো সাগরিকারা জানিয়ে দিলেন তাদের ট্রফি জয়ের ক্ষুধার কথা।
আগামী ১৩ জুলাই নেপালের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ১৫ ও ১৭ জুলাই পর পর দুই ম্যাচ খেলবে ভূটানের বিপক্ষে। ১৯ জুলাই ফের শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ এবং ২১ তারিখ নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে মাঠে নামবে নেপালের বিপক্ষে।
চার দল অংশ নেয়ায় এবারের অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই হচ্ছে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে। যেখানে প্রতিটি দল দু’বার করে পরষ্পরের মুখোমুখি হবে। পয়েন্ট টেবিলে সবার উপরে থাকা দল হবে চ্যাম্পিয়ন।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩















