নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু-তে অনুষ্ঠিত ‘অষ্টম নেকোস আন্তর্জাতিক জুডো চ্যাম্পিয়নশিপ’ এ দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের শেষ দিনে আরও দুটি স্বর্ণপদক জয়ের মাধ্যমে মোট চারটি স্বর্ণ ও একটি ব্রোঞ্জ নিয়ে জুনিয়র ক্যাটাগরিতে রানার্সআপ হয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করেছে বাংলাদেশ দল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জুডো খেলোয়াড়দের এই পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে বড় একটি অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কাঠমান্ডুর নয়াবাজারে অবস্থিত একটি বহুমুখী মার্শাল আর্টস কেন্দ্রে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার তৃতীয় তথা শেষ দিনে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখান ফাবিহা বুশরা। তিনি মেয়েদের ৭০+ কেজি ওজন শ্রেণিতে দারুণ নৈপূণ্য দেখিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছেন। পুরো লড়াইয়ে তিনি প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ না দিয়ে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখেন। একই দিনে পুরুষদের (-) মাইনাস ৭৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে স্বর্ণপদক জিতেছেন শাহিন আহমেদ।

এর আগে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনেও বাংলাদেশ পায় গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৮ ক্যাডেট +৫৩ কেজি ইভেন্টে স্বর্ণপদক জেতেন আজিজা আলেয়া লিয়ন। পাশাপাশি বালক ক্যাডেট +৬২ কেজি ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেন উসাচিং মারমা বিজয়। একই দিনে বালিকা -৪৫ কেজি ইভেন্টে ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেন রেমি হাসি। এসব পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শুরু থেকেই পদকের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করে বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে চারটি স্বর্ণ ও একটি ব্রোঞ্জপদক নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে বাংলাদেশ দল। বিশেষ করে ফাবিহা বুশরার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। তিনি জুনিয়র ক্যাটাগরিতে সেমিফাইনালে মাত্র ৪ সেকেন্ডে এবং ফাইনালে মাত্র ৩০ সেকেন্ডে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তার এই আধিপত্যপূর্ণ জয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জুডোর সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বাগতিক নেপালের বিভিন্ন ক্লাবের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভুটান থেকেও প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করেন। মোট প্রায় ৩০০ জন জুডোকা এই টুর্নামেন্টে অংশ নেন, যার মধ্যে নেপালের ১৫টি ক্লাবের খেলোয়াড়রা ছিলেন উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেন তিনজন বালক ও তিনজন বালিকা, এবং তারা সবাই বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর খেলোয়াড়।
বাংলাদেশ দলের ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ড. লুৎফর রহমান, যিনি দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কোচ হিসেবে ছিলেন মো. আবু বকর সিদ্দিক, এবং দলের অফিসিয়াল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আল-আমিন।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩



















