অলিখিত সেমিফাইনালে বোলাররা তাদের কাজ ঠিকঠাক করলেও ব্যাটাররা দায়িত্ব নিতে পারেনি। মাত্র ১৩৬ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ রানে হেরেছে টাইগাররা। ২০ ওভারে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে তোলে ১২৪ রান। ফলে বাংলাদেশকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তান।
লক্ষ্য খুব বড় না হলেও নিয়মিত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারে বিদায় নেন ইমন। আফ্রিদির শূন্য রানে নাওয়াজের হাতে ক্যাচ দেন এই ওপেনার। তিনে সাইফ হাসানের সঙ্গে জুটি গড়ে দলীয় ২৩ রানে বিদায় নেন তাওহীদ হৃদয়। আফ্রিদির বলে ৫ রানে সাইমের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ৫ ওভারে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ২৯।
ক্রিজে সাইফ হাসানের সঙ্গী শেখ মেহেদি হাসান। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে হারিসের বলে বিদায় নেন সাইফ। দারুণ ছন্দে থাকা এই ওপেনারের বিদায়ে আরও চাপে পড়ে টাইগাররা। দুই ছক্কা ও এক চারে ১৪ বলে ১৮ রান করেন সাইফ। পরে মেহেদী ফিরে যান ১১ রানে। তবে চাপের মাঝে ক্রিজে নুরুল হাসান সোহানের সঙ্গী হন শামীম হোসেন।
১০ ওভারে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে তোলে ৫৮ রান। দলীয় ৬৩ রানের মাথায় নুরুল হাসান সোহান ১৬ বিদায় নেওয়ার পর সেই মিছিলে যোগ দেন জাকের আলি। সাইম আইয়ুবের বলে বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে দেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। ৯ বলে ৫ রান করেন জাকের। ১৪ ওভারে বাংলাদেশের রান ৬ উইকেটে ৭৩।
শেষ দিকে শামীম হোসেনের সঙ্গী তানজিম হাসান। কিন্তু ১৭তম ওভারে শামীমকে ফিরিয়ে দেন আফ্রিদী। ২৫ বলে ৩০ রান করেন শামীম। তানজিম হাসান সাকিব ১০ রান বোল্ড হারিসের বলে। ১৭.৪ ওভারে বাংলাদেশের রান তখন ৯ উইকেটে ১০১ রান। শেষ দিকে মোস্তাফিজকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই করেন রিশাদ। জিততে শেষ তিন বলে প্রয়োজন ছিল ১৮ রান। চতুর্থ বলে ছক্কা। কিন্তু এরপর বাংলাদেশকে থামতে হয় ১২৪ রানে। রিশাদ ১৬ ও মোস্তাফিজ ৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তানের পক্ষে আফ্রিদী ও হাসির তিনটি করে উইকেট নেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৫ রান তোলে পাকিস্তান। বোলিংয়ে প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে সাহিদজাদাকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন তাসকিন। ৪ রান করে রিশাদের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
উইকেটের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তাসকিন। বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে একশ উইকেট নিলেন তিনি। দ্বিতীয় ওভারে উইকেট পান মেহেদী। সাইম ৩ বলে শূন্য রানে ফেরেন। চলতি এশিয়া কাপে এটি তার চতুর্থ ডাক। শূন্য রানের বিশ্ব রেকর্ড সাইমের। ৬ ওভারে পাকিস্তানের রান ২ উইকেটে ২৭। পাওয়ার প্লে শেষে আক্রমণে এসে রিশাদ হোসেন ফিরিয়ে দেন ফাখার জামান। ২০ বলে দুই চারে ১৩ রান করেন ফাখার। নিজের পরের ওভারে আরেকটি উইকেট নেন রিশাদ। তালাত ৩ রান করে সাইফের হাতে ক্যাচ দেন।
৯ ওভারে পাকিস্তানের রান ৪ উইকেটে ৩৭। এবার আক্রমণে এসেই উইকেট নেন মুস্তাফিজুর রহমান। সালমান আলি আগা উইকেটের পেছনে জাকের আলির হাতে ক্যাচ দেন। ২৩ বলে দুই চারে ১৯ রান করেন সালমান। ১১ ওভারে পাকিস্তানের রান ৫ উইকেটে ৫১। এরপর তিন দফায় বেঁচে গিয়ে তাসকিনের বলে ১৩ বলে ১৯ রান করে বিদায় নেনে আফ্রিদি। ১৪ ওভারে ৬ উইকেটে ৭৫ রান তোলে পাকিস্তান।
এবার হারিসকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন মেহেদি। ২৩ বলে ৩১ রান করেন তিনি। শেষ দিকে নাওয়াজকে ফেরান তাসকিন। ১৫ বলে ২৫ রান করলেন নাওয়াজ। তবে ফাহিম আশরাফ ১৪ ও হারিস রউফ ৩ রান করে অপরাজিত থাকেন।
বল হাতে পেসার তাসকিন আহমেদ ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে নেন তিন উইকেট। এছাড়া মেহেদী ৪ ওভারে ২৮ রানে দুটি ও রিশাদ ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। মোস্তাফিজ ৪ ওভারে ৩৩ রানে নেন একটি উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান ২০ ওভারে ১৩৫/৮
বাংলাদেশ ২০ ওভারে ১২৪/৯
পাকিস্তান ১১ রানে জয়ী
