এক হাজার তিনদিন পর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরেই দাপুটে জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ওল্ড ট্রাফোর্ডে আজারবাইজানের ক্লাব সাবাহ এফকেকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করেছে মাইকেল ক্যারিকের দল। ইউনাইটেডের এটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৩০০তম ম্যাচ।
মৌসুমের শুরুটা ওঠানামায় ভরা হলেও সাবাহর বিপক্ষে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইউনাইটেড। ২৭ মিনিটে প্যাট্রিক দর্গুর দারুণ ক্রস থেকে কাছ থেকে শটে গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন মাতেউস কুনহা। এরপর অবশ্য সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল সাবাহ। ৩৬ মিনিটে কাহিম প্যারিসের ক্রস থেকে জয়স-ল্যান্স মিকেলসের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এই সুযোগ নষ্টের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ইউনাইটেডকে। ছয় মিনিট পর দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ। নতুন মৌসুমে দলে যোগ দেওয়া ইউরি তিলেমান্সের বুদ্ধিদীপ্ত কাটব্যাক কাজে লাগিয়ে গোল করেন পর্তুগিজ তারকা। বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান ৩-০ করে ইউনাইটেড। ব্রায়ান এমবুমোর বাড়ানো বলে গোলরক্ষককে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান বেঞ্জামিন সেস্কো। চলতি মৌসুমে এটি ছিল তাঁর প্রথম শুরু থেকে মাঠে নামার ম্যাচ, আর তাতেই গোলের দেখা পেলেন এই স্ট্রাইকার।

তিন গোলের লিড নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা সতর্ক হন ক্যারিক। বিরতির সময় তিলেমান্সকে তুলে ম্যাসন মাউন্টকে মাঠে নামান। এরপরও সাবাহর ওপর চাপ অব্যাহত ছিল। শেষ পর্যন্ত ৬৮ মিনিটে সেট-পিস থেকে চতুর্থ গোল পায় ইউনাইটেড। ফার্নান্দেজের দ্রুত নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে জশুয়া জির্কজির ব্যাকহিলের পর তৈরি হওয়া জটলার সুযোগে বল জালে পাঠান লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। শেষ দিকে সাবাহ গোল শোধের চেষ্টা করলেও ইউনাইটেডের রক্ষণে ফাটল ধরাতে পারেনি। যোগ করা সময়ে মিকেলসের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, আর অরফে এমবিনার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইউনাইটেড। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। তবে আপাতত চার গোলের জয় দিয়ে ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় প্রত্যাবর্তন উদ্যাপন করার যথেষ্ট কারণই পেল ক্যারিকের দল।


