কেউ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের ম্যাচে শুরু থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে। গোলের শুরুটা ইংল্যান্ড করলেও সমান তালেই লড়ে গেছে ক্রোয়েশিয়া । প্রথমে ইংল্যান্ড পেনাল্টি থেকে গোল করলেও ফিল্ড গোল করে জবাব দিয়ে গেছে ইংল্যান্ড।
প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিট শেষে ২-২ গোলের সমতা নিয়ে বিরতিতে গেছে দল দুটি। ম্যাচের চার গোলের মধ্যে ইংল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেছেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার হয়ে গোল দুটি করেছেন মার্টিন বাতুরিনা ও পিটার মুসা।
পেনাল্টি নাটক ও কেইনের প্রথম গোল
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। খেলার ১২ মিনিটে প্রথম লিড পায় থ্রি-লায়ন্সরা। নিজেদের ডি-বক্সে ইংলিশ ফরোয়ার্ড নোনি মাদুয়েকেকে ক্রোয়েশিয়ান অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি ক্লেমেন্ট টার্পিন।
পেনাল্টি থেকে শট নিতে গিয়ে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন হ্যারি কেইন। তাঁর নেওয়া শটটি দুর্দান্তভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। তবে ইংলিশ সমর্থকদের সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ভিএআর (VAR) পরীক্ষার পর রেফারি জানান, কেইন শট নেওয়ার আগেই গোললাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসেছিলেন লিভাকোভিচ। ফলে নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় দফায় কোনো ভুল করেননি কেইন; নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।
পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে প্রথম সাফল্য পায় তারা। পিটার সুচিচের পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে এক দুর্দান্ত বাঁ-পায়ের শটে গোল করেন মার্টিন বাতুরিনা। প্রায় ৭৫ মাইল বেগের সেই গতির শট ঠেকানোর কোনো সুযোগই ছিল না ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের সামনে।
গ্যারি লিনেকারের রেকর্ডে ভাগ বসালেন কেইন
তবে সমতায় ফেরার স্বস্তি বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। এর মাত্র ছয় মিনিট পরেই (৪২ মিনিটে) ডেকলান রাইসের নেওয়া কর্নার থেকে দারুণ এক হেডে ক্রোয়েশিয়ার জাল কাঁপান হ্যারি কেইন। এই গোলের মাধ্যমে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ৮১তম গোল পূর্ণ করলেন কেইন। একই সাথে বিশ্বকাপে এটি তাঁর ১০ম গোল, যার মাধ্যমে তিনি ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারের পাশে দেশের সর্বকালের শীর্ষ বিশ্বকাপ গোলদাতা হিসেবে নাম লেখালেন।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ
ইংল্যান্ড যখন ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই চমক দেখায় ক্রোয়েশিয়া। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত ৫ মিনিটের শেষ মুহূর্তে ইভান পেরিসিচের হেড থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন পিটার মুসা। ফলে ২-২ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
