আটলান্টায় ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ঐতিহাসিক এই জয়ের আনন্দের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের হাতে দেখা যায়, ‘দ্য ফকল্যান্ডস আর আর্জেন্টাইন’ লেখা একটি ব্যানার। দর্শকাসন থেকে নেওয়া ব্যানারটি মাঠে প্রদর্শনের পরই শুরু হয়েছে আলোচনা। রাজনৈতিক বার্তা বহনকারী এই ব্যানারের কারণে ফিফার তদন্ত ও শাস্তির মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজনৈতিক, আদর্শিক বা বিতর্কিত বার্তা বহনকারী কোনো ব্যানার, স্লোগান বা অঙ্গভঙ্গির দায় সংশ্লিষ্ট ফুটবল সংস্থাকেই নিতে হয়। এমন ঘটনায় সতর্কবার্তা, আর্থিক জরিমানা, পুরস্কারের অর্থ ফেরত কিংবা বিশেষ ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির বিধানও রয়েছে।
এছাড়া ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডের জাতীয় সংগীত চলাকালে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ‘যে লাফাবে না, সে ইংরেজ’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনাও নজরে এসেছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় সংগীতের সময় এমন আচরণের কারণেও জরিমানার মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা।
সব বিতর্কের মধ্যেই এখন ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছে লিওনেল স্কালোনির দল। আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি জিততে পারলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ বহু পুরোনো। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধও হয়েছিল। যুদ্ধে জয়ী হয়ে দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ব্রিটেন, যদিও আর্জেন্টিনা এখনো সেগুলোর ওপর নিজেদের দাবি বজায় রেখেছে।


