বিশ্বকাপ ফাইনালে এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। এটি কেবল দুই দেশের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নয়, দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকা-লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামালের গুরু-শিষ্য দ্বৈরথও। তবে অনেকে ইয়ামালকে ‘নতুন মেসি বললেও বাস্তবে তাদের খেলার ধরণ এক নয়।
রোববার নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই দল। যেখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন ফুটবল কিংবদন্তি মেসি এবং স্পেনের বিস্ময়বালক
ছোটবেলা থেকেই কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে নিজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করে আসছেন লামিন ইয়ামাল। বার্সেলোনার লা মাসিয়া একাডেমিতে বেড়ে ওঠা এই তরুণ উইঙ্গার বহু সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মেসির খেলা দেখেই তিনি ফুটবলের প্রেমে পড়েছেন।
মাঠে ড্রিবলিং, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ওঠার কৌশলেও মেসির প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে ইয়ামালের খেলায়। ফুটবলের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়ও জড়িয়ে আছে এই দুই তারকার সঙ্গে। ২০০৭ সালে একটি দাতব্য ফটোশুটে মাত্র কয়েক মাস বয়সী ইয়ামালকে কোলে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি।
প্রায় দুই দশক পর সেই শিশুই এখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মেসির বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি নতুন করে ভাইরাল হয়েছে, যা এই ফাইনালকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে।
৩৯ বছর বয়সী মেসির লক্ষ্য ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ করা। অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল চান প্রথম বিশ্বকাপেই স্পেনকে শিরোপা এনে নতুন যুগের সূচনা করতে।
লিওনেল মেসির মূল শক্তি হলো বল নিয়ন্ত্রণ, সংকীর্ণ জায়গায় ড্রিবলিং, খেলা তৈরি এবং গোল করার অসাধারণ দক্ষতা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি একজন পূর্ণাঙ্গ প্লেমেকারে পরিণত হয়েছেন।
তবে লামিন ইয়ামাল বেশি সরাসরি আক্রমণাত্মক। উইং থেকে গতির ঝড় তুলে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ওঠা, ক্রস করা এবং দূরপাল্লার শটে দক্ষ।
বল পজিশনে মেসির ক্যারিয়ারের শুরুতে ডান উইঙ্গার হলেও পরে ফলস নাইন, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এবং ফ্রি-রোলে খেলেছেন।
আর ইয়ামাল মূলত ডান উইঙ্গার। ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে আক্রমণ গড়তে পছন্দ করেন।
মাঠে দ্রত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে মেসির। হঠাৎ খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক সময়ে পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিহাসের অন্যতম সেরা।
আর ইয়ামালের বয়স কম হওয়ায় এখনো শেখার পর্যায়ে। অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ ড্রিবল বা ব্যক্তিগত উদ্যোগ বেশি নেন।
গোল বনাম অ্যাসিস্টে মেসি সমানভাবে গোল করেন এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করান।
আর ইয়ামাল এখন পর্যন্ত গোলের চেয়ে সুযোগ তৈরি এবং অ্যাসিস্টে বেশি কার্যকর।
অভিজ্ঞতায় মেসি: বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ প্রায় সব বড় শিরোপার জয়ী।
ইয়ামালের ক্যারিয়ারের শুরুতেই ইউরো জিতেছেন এবং বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছেন, তবে অভিজ্ঞতায় এখনও অনেক পিছিয়ে।


