আইসিসি’র বার্ষিক সভায় সিদ্ধান্ত
স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বার্ষিক সভায় বিশ্ব ক্রিকেটের সুশাসন, সদস্যপদ এবং আর্থিক সহায়তার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্রিকেট বিশ্বের একাধিক দেশের বর্তমান প্রশাসনিক সংকট ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে এই সভায় বিশদ আলোচনা হয়।
সভায় গৃহীত মূল সিদ্ধান্ত ও বিষয়সমূহ নিচে একনজরে তুলে ধরা হলো:
মরিশাসের অন্তর্ভুক্তি ও ফ্রান্সকে নোটিশ
ক্রিকেটের বিশ্বায়নকে আরও ত্বরান্বিত করতে মরিশাসকে আইসিসি’র সহযোগী সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মরিশাস বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার ১১১তম সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করল।
অন্যদিকে, সদস্যপদের শর্ত ও মানদণ্ড সঠিকভাবে পূরণ করতে না পারায় ফ্রান্স ক্রিকেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অন নোটিশ’ বা সতর্কবার্তার আওতায় আনা হয়েছে। তবে আপাতত দেশটির বিরুদ্ধে বড় কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য বিশাল আর্থিক অনুদান
ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (CWI) প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আইসিসি বোর্ড ১২.৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ১৩০ কোটি টাকার বেশি) একটি বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করেছে।
কানাডার স্থগিতাদেশ বহাল ও শ্রীলঙ্কা প্রসঙ্গে কড়া বার্তা
গত জুনে সদস্যপদের বাধ্যবাধকতা মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করায় ক্রিকেট কানাডাকে বহিষ্কার করেছিল আইসিসি। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ওপর এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকছে। যদিও ক্রিকেট কানাডা দ্রুত পুনর্বহালের জন্য একটি ‘বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা’ জমা দিয়েছে, তবে আইসিসি কিছু নির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছে; যা পূরণ করলেই কেবল তাদের সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
পাশাপাশি, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (SLC) নিয়ে নিজেদের অনড় অবস্থানেই রয়েছে আইসিসি। মে মাসে শ্রীলঙ্কা সরকার নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে একটি ‘ট্রান্সফরমেশন কমিটি’ গঠন করার পর থেকেই দেশটির ক্রিকেটে অচলাবস্থা চলছে। আইসিসি শ্রীলঙ্কার সংশোধিত সংবিধান তৈরির অগ্রগতিকে স্বাগত জানালেও, অবিলম্বে সেখানে সাধারণ নির্বাচন দেওয়ার জোর তাগিদ দিয়েছে। একই সাথে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের কোনো প্রতিনিধি আইসিসি-র বোর্ড মিটিংয়ে অংশ নিতে পারবেন না।
দুটি নতুন উপ কমিটি গঠন
আইসিসি-র প্রশাসনিক সংস্কার ও বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর সুষ্ঠু তদারকির জন্য দুটি নতুন উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে:
সুশাসন পর্যালোচনা কমিটি: এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন বিসিসিআই (BCCI) সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া, সিএসএ (CSA) সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মুসাজি এবং আইসিসি-র স্বাধীন পরিচালক ড. রস রিভাজ।
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ কমিটি: এই কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে বিসিবি (BCB) সভাপতি তামিম ইকবালকে। তার সাথে আরও থাকছেন রুডি ভ্যান ভুরেন (ক্রিকেট নামিবিয়া), রিচার্ড গোল্ড (ইসিবি), টড গ্রিনবার্গ (ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া) এবং দেবজিৎ সাইকিয়া।
আইসিসি-র এই বার্ষিক সভার সিদ্ধান্তগুলো আগামী দিনে সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটীয় কাঠামো এবং বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের নীতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।


