বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের হারের যত কারণ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কখনও হারেনি আপরদিকে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ৩য় বার সেমির বাধা অতিক্রমের ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিল বিশ্বকাপে থেকে। ১৯৬৬ সালে প্রথম সেমির বাধা অতিক্রম করে ফাইনালে উঠে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রিটিশরা তারপর ১৯৯০ সালে পশ্চিম জার্মানি এবং ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছিল। পক্ষান্তরে আর্জেন্টিনা মোট ৭ বার বিশ্বকাপের সেমিতে খেললো এবং প্রতিবার বাধা পেরিয়ে ফাইনালে উঠেছে। এই ম্যাচ ঘিরে তাই অনেক যুদ্ধ যুদ্ধ কথার লড়াই চলছিল এমন কি রাজনৈতিক করণ যেমন ১৯৮২ সালের আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রতিশোধ হিসেবেও দেখছিল আর্জেন্টিনা এমন এক বিগ ম্যাচে ০-১ গোলে এগিয়ে থেকেও ইংল্যান্ড কেন ২-১ গোলে পরাজিত হল? চলুন দেখা যাক বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের হারের যত কারণ।

ইংল্যান্ডের পরাজেয়ের যত কারণ    

১. লিড ধরে রাখতে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশলঃ
অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড আক্রমণের বদলে অতিমাত্রায় রক্ষণে মনোযোগ দিয়ে ব্যবধান ধরে রেখে খেলা শেষ করতে চেয়েছিল যার ফলে আর্জেন্টিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আক্রমনের পর আক্রমন করে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। যেখানে ব্যাকফুটে চলে যায় ইংল্যান্ড।

২. মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ হারানোঃ
শেষ ২০-২৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও লিয়ান্দ্রো প্যারাডেস দাপটে ফুটবল খেলে যার কারণে আর্জেন্টিনা মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে আর এখানেই ইংল্যান্ড খেই হারিয়ে বলের দখল হারায়।  

৩. লিওনেল মেসির জাদুকরী প্রভাবঃ
ম্যাচের শেষ দিকে মেসি ২টি নিখুঁত অ্যাসিস্ট করেন-প্রথমে ৮৫ মিনিটে ডান প্রান্তের পেনাল্টি এরিয়ার মধ্য থেকে পেনাল্টি আর্কের কাছে বল ব্যাক পাস দিয়ে সমতা সূচক গোল করান এনজো ফার্নান্দেজকে দিয়ে। এরপর অতিরিক্ত সময়ের ২ মিনিটে পেনাল্টি এরিয়ার বাইরে থেকে গোল এরিয়ার কাছাকাছি ক্রস তুলে দেন যা থেকে লাউতারো মার্তিনেজ ফ্লিক হেডে দুইজন ডেফেন্ডারের মাঝে থেকে জয় সূচক গোল করে দলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করেন।  

৪. কোচ থমাস টুখেলের রক্ষণাত্মক বদলিঃ
কোচ টুখেল ব্যাক-ফাইভে চলে গিয়ে আক্রমণভাগ দুর্বল করে ফেলেন। এতে ইংল্যান্ডের পাল্টা আক্রমণের ধার কমে যায় এবং আর্জেন্টিনা আরও বেশি চাপ সৃষ্টি করে গোল আদায় করে নেয়।  

৫. আর্জেন্টিনার নিরবচ্ছিন্ন চাপঃ
সমতা ফেরানোর আগেই আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালায়। ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লাগে, এনজো বেশ কয়েকবার ইংল্যান্ড গোলরক্ষক পিকপোর্ডের পরীক্ষা নিয়েছেন বক্সের বাইরে থেকে পাওয়াফুল শটে এছাড়া মেসির ক্রস ভেসে আসছিল বৃষ্টির মত-যা থেকে অনুমান করা যাচ্ছিল যে আর্জেন্টিনা গোল পাবে।

৬. শেষ মুহূর্তে মনোযোগের ঘাটতিঃ
আর্জেন্টিনার লাউতারো মার্টিনেজ বক্সের ভেতরে ফিনিশিং এ অনেকের চাইতে এগিয়ে তাই বিশেষ করে ইনজুরি টাইমে কর্নার/ক্রস থেকে লাউতারো মার্তিনেজকে ফাঁকা জায়গা দেওয়া ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের বড় ভুল ছিল। সেই সুযোগেই আসে মেসির ক্রস থেকে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল।

৭. বিকল্প আক্রমণভাগের যথাযথ ব্যবহার না করাঃ
সাইড বেঞ্চে থাকা গতিময় আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের দেরিতে মাঠে নামানোতে ইংল্যান্ড প্রতিআক্রমণের হুমকি তৈরি করতে পারেনি।

৮. আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন মানসিকতাঃ
বিগত ম্যাচ গুলোতে দেখা গেছে যে আর্জেন্টিনা আগে গোল হজম করেও বিশেষ করে মিশরের বিপক্ষে ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েও ধৈর্য না হারিয়ে জয়ের জন্য খেলে জয় পেয়েছে যা তাদের আত্নবিশ্বাসে ফুয়েল এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার মানসিক শক্তিই তাদের ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে।

মোটা দাগে বলা যায় ইংল্যান্ডের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো, মেসির অসাধারণ নেতৃত্ব ও অ্যাসিস্ট, এবং শেষ মুহূর্তে রক্ষণভাগের ভুল-এই ৪টি কারণই ইংল্যান্ডের হারের আর আর্জেন্টিনার ২-১ জয়ের মূল কারণ।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles