আর্জেন্টিনাকে আরেকটি বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে বদলি নেমে জয়সূচক গোল করেছেন লাউতারো মার্তিনেস। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত এই স্ট্রাইকার জানালেন, এমন একটি গোল করার স্বপ্ন তিনি দেখে আসছেন ছোটবেলা থেকেই। সেই গোল তিনি উৎসর্গ করেছেন নিজের মাকে।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নির্ধারিত সময়ের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১–০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। এরপর বক্সের বাইরে থেকে এন্সো ফের্নান্দেসের দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফেরে দলটি। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২–১ ব্যবধানে ফাইনালে তোলেন মার্তিনেস।
ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ২৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।‘সত্যি বলতে, আমি অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। প্রথম যেদিন বাবা আমাকে এক জোড়া ফুটবল বুট কিনে দিয়েছিলেন, সেদিন থেকেই এমন একটি গোল করার স্বপ্ন দেখেছি।’
কথা বলতে গিয়ে কয়েকবার গলা ধরে আসে মার্তিনেসের। পরে নিজের মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, রেসিং ক্লাবে যোগ দেওয়ার দিন থেকে আজ পর্যন্ত তাঁর মা কখনো তাঁর প্রতি যত্ন নেওয়া বন্ধ করেননি।‘এই গোলটা আমার মায়ের জন্য। আমি রেসিংয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি কখনো আমার বিছানা গুছিয়ে রাখা বন্ধ করেননি। আমার কাছে সেটার মূল্য একটি গোল বা একটি ফাইনালের চেয়েও অনেক বেশি।’
চলতি বিশ্বকাপে এটি মার্তিনেসের তৃতীয় গোল। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও যোগ করা সময়ে গোল করেছিলেন তিনি। গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষেও একটি গোল আছে তাঁর। নিজের পারিবারিক জীবনের পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন ইন্টার মিলানের এই অধিনায়ক।
‘আমার দুই সন্তান জন্ম নেওয়ার পর জীবন পুরো বদলে গেছে। আমি অনেক বেশি স্থির হয়েছি। এখন এসব মুহূর্ত উপভোগ করতে পারি। আমি এখন আরও পরিণত এবং জীবনকে উপভোগ করছি।’চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হলেও সেই আসরে গোলের দেখা পাননি মার্তিনেস। এবার অবশ্য নিজের ওপর আস্থা ছিল তাঁর। ম্যাচে নামার আগেই সতীর্থদের বলেছিলেন, তিনিই দলের জয়সূচক গোল করবেন।
‘আমি সত্যিই এমন একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম। আলেক্সিসকে বলেছিলাম, আমি গোল করব। ফাকুকেও বলেছিলাম, মাঠে নেমে ম্যাচটা জিতিয়ে দেব।’ম্যাচের বিশ্লেষণে মার্তিনেস বলেন, প্রতিপক্ষ প্রথম এক ঘণ্টা ভালো খেললেও পরে শারীরিকভাবে ছন্দ হারিয়ে ফেলে, আর সেই সুযোগই কাজে লাগিয়েছে আর্জেন্টিনা।
‘এই দল বারবার প্রমাণ করছে, আমরা কী দিয়ে তৈরি। তারা ৬০ মিনিট পর্যন্ত চাপ সৃষ্টি করেছিল, এরপর আর পারেনি। গোল করার পর তারা রক্ষণাত্মক হয়ে যায়। এতে আমরা বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছি এবং শেষ পর্যন্ত জয়ের গোলও পেয়েছি।’
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে আগামী ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।


