গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এমবাপেকে টপকে গেলেন মেসি

বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াই জমজমাট হয়ে উঠেছে। লড়াই যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই জমছে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লড়াই। সেই লড়াইয়ে নতুন মোড় এনে দিলেন লিওনেল মেসি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপেকে টপকে গেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার জয়ে মেসি ছিলেন অন্যতম নায়ক। গোল করতে পারেননি তবে আক্রমণভাগে ছিলেন সবচেয়ে কার্যকর ফুটবলার। তাঁর পারফরম্যান্স শুধু দলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতেই সাহায্য করেনি, ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকাতেও যোগ করেছে নতুন অধ্যায়।

এই বিশ্বকাপে শুরু থেকেই ধারাবাহিক ছন্দে রয়েছেন মেসি। গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউট- প্রতিটি ধাপেই গোল ও অ্যাসিস্টে দলের আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন তিনি। অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ভেঙে দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা।

দলকে ফাইনালে তোলার পর নির্ভার মেসি

অন্যদিকে, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে দীর্ঘ সময় গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন। তাঁর গতি, ড্রিবলিং ও গোল করার ক্ষমতা ফ্রান্সকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে এলেও স্পেনের কাছে হারের পর আপাতত থেমে গেছে তাঁর গোলসংখ্যা। ফলে সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন মেসি।

তবে গোল্ডেন বুটের লড়াই এখনও শেষ হয়ে যায়নি। সামনে রয়েছে বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেখানে মেসির সামনে থাকবে গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ। অন্যদিকে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলার সুযোগ থাকলে এমবাপেও আবার সমতায় ফেরার বা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতার উত্তেজনা বজায় থাকবে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসির ঝুলিতে প্রায় সব বড় অর্জনই রয়েছে। এবার যদি তিনি গোল্ডেন বুটও জিততে পারেন, তবে সেটি হবে তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের আরেকটি উজ্জ্বল মাইলফলক। একই সঙ্গে দলকে শিরোপা এনে দিতে পারলে ২০২৬ বিশ্বকাপ তাঁর জন্য স্মরণীয় এক পরিণতিতে পৌঁছাবে।

এখন সব চোখ ফাইনালের দিকে। আর্জেন্টিনা যেমন চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন দেখছে, তেমনি লিওনেল মেসিও তাকিয়ে আছেন ব্যক্তিগত আরেকটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের দিকে। শিরোপা আর গোল্ডেন বুট-দুটিই কি শেষ পর্যন্ত উঠবে তাঁর হাতেই, সেই উত্তর মিলবে বিশ্বকাপের মহারণে।

গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে কে কোথায়
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট

কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): ৮ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট

আর্লিং হলান্ড (নরওয়ে): ৭ গোল

জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড): ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট

হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড): ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট

উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স): ৫ গোল, ২ অ্যাসিস্ট

মিকেল ওইয়ারসাবাল (স্পেন): ৫ গোল, ১ অ্যাসিস্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles