বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষককে দেওয়া মর্যাদাপূর্ণ ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ পুরস্কারের লড়াই এবারও জমে উঠেছে। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত সব সেভ, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের ভরসা হয়ে ওঠার স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
তবে নাম ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ হলেও ট্রফিটি খাঁটি সোনার তৈরি নয়। সাধারণত ধাতুর ওপর সোনালি প্রলেপ দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। বাণিজ্যিক মূল্য খুব বেশি না হলেও ফুটবলীয় মর্যাদার দিক থেকে এর মূল্য অপরিসীম।
চলতি বিশ্বকাপে এই পুরস্কারের দৌড়ে এখন সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। সেমিফাইনালের আগে সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছেন তিনি। ইতোমধ্যে ছয়টি ক্লিন শিটও রেখেছেন স্প্যানিশ এই গোলরক্ষক, যা এক আসরে সর্বোচ্চ ক্লিন শিটের রেকর্ড স্পর্শ করেছে।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোল হজম করার আগে টানা ৬৪৯ মিনিট জাল অক্ষত রেখেছিলেন সিমন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি অন্যতম সেরা রক্ষণাত্মক রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ২০২২ বিশ্বকাপে গোল্ডেন গ্লাভস জয়ী এমিলিয়ানো মার্তিনেজও এখনো লড়াইয়ে আছেন। তবে পরিসংখ্যানের বিচারে তিনি কিছুটা পিছিয়ে। নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনাকে একাধিক গোল হজম করতে হয়েছে, যা তার সম্ভাবনাকে কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
তবে ইতিহাস বলছে, সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চ্যাম্পিয়ন দলের গোলরক্ষকই জিতেছেন গোল্ডেন গ্লাভস। ফলে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের ফলও এই পুরস্কারের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সব হিসাব-নিকাশে আপাতত উনাই সিমনই সবচেয়ে বড় দাবিদার। তবে বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচেই লুকিয়ে আছে আসল নাটক। শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে সেরা গোলরক্ষকের সম্মান, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।


