খাদের কিনারা থেকে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য কামব্যাকের এক নতুন রূপকথা লিখল আর্জেন্টিনা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের চিরচেনা সেই ‘কখনো হার না মানা’ মানসিকতার কাছে আরও একবার ভাঙল ইংলিশদের হৃদয়। থ্রিলার ঠাসা দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।
ম্যাচের দীর্ঘ সময় অর্থাৎ ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের মাত্র কয়েক মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ (৮৫) ও লাউতারো মার্টিনেজের (৯০+২) জোড়া আঘাতে জয় ছিনিয়ে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। আগামী রবিবার ট্রফি ধরে রাখার লড়াইয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে স্পেন।
রক্ষণাত্মক কৌশলের মাশুল দিল ইংল্যান্ড
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে (৫৫ মিনিট) অ্যান্থনি গর্ডনের চমৎকার এক গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। গোল হজম করার পর আর্জেন্টিনা যখন মরিয়া হয়ে আক্রমণ শানাচ্ছিল, তখন ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ বেশ শক্ত হাতেই তা সামলে রাখছিল। তবে লিড নেওয়ার পর অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ার খেসারত দিতে হয়েছে থ্রি লায়ন্সদের। লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের মতো তারকাদের ওপর ক্রমাগত চাপ সামলাতে গিয়ে ম্যাচের শেষভাগে খেই হারিয়ে ফেলে ইংলিশ ডিফেন্স।
শেষ ১০ মিনিটের ম্যাজিক
যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি আর্জেন্টিনার হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শট পরাস্ত করে ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে। সমতায় ফিরে স্টেডিয়ামে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে আর্জেন্টিনা।
এরপর নাটকীয়তার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় অতিরিক্ত সময়ে (স্টপেজ টাইম)। ইংলিশ রক্ষণভাগের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান লাউতারো মার্টিনেজ। গ্যালারিতে থাকা হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থককে উল্লাসে ভাসিয়ে উল্টো রথে চড়ে ফাইনালে পা রাখে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
আর্জেন্টিনার পথচলার সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
| প্রতিপক্ষ | ম্যাচের পরিস্থিতি | চূড়ান্ত ফলাফল |
| মিশর | ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা | ৩-২ ব্যবধানে জয় (৭৯ মিনিটের পর ৩ গোল) |
| কেপ ভার্দে | অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চ | জয়ী |
| সুইজারল্যান্ড | অতিরিক্ত সময়ের কঠিন লড়াই | জয়ী |
| ইংল্যান্ড | ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ তে পিছিয়ে থাকা | ২-১ ব্যবধানে নাটকীয় জয় |
টানা চতুর্থ মেগা ফাইনাল
এই জয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা চারটি বড় টুর্নামেন্টের (কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে) ফাইনালে ওঠার অনন্য কীর্তি গড়ল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ এভাবে হাতছাড়া করায় হতাশায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় হ্যারি কেইনদের।
ম্যাচ শেষে মাঠের একপাশে যখন ইংলিশ খেলোয়াড়দের চোখে জল, অন্যপাশে তখন নীল-সাদা জার্সিধারীদের বাঁধভাঙা জয়োৎসব। এখন ফুটবল বিশ্বের চোখ আগামী রবিবারের মহাদ্বৈরথে, যেখানে ইতালি ও ব্রাজিলের পর ইতিহাসের তৃতীয় দেশ হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।


