প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে বাংলাদেশের। শুক্রবার বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটি সিরিজে টিকে থাকার লড়াই, অন্যদিকে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের সামনে সুযোগ ২০২২ সালের পর টাইগারদের বিপক্ষে আরেকটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের স্বাদ নেওয়ার।
ব্যাটিং ব্যর্থতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৭১ রান তাড়া করতে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা। রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানির আগুনে বোলিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন টপ-অর্ডার ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত ৩২ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সফরকারীদের।
এই হারের ফলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে টানা পাঁচ ম্যাচে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল বাংলাদেশ। তবে বর্তমান দলটিতে একাধিক নিয়মিত মুখ নেই। ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদকে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) খেলার ছাড়পত্র দিয়েছে বিসিবি।
ইতিবাচক দিক: ইয়াসিরের প্রত্যাবর্তন ও তাসকিনের নিয়ন্ত্রিত বোলিং
প্রথম ম্যাচের চরম হতাশার মাঝেও বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি ছিল ইয়াসির আলীর ব্যাটিং। প্রায় ৩৩ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই ৩৮ বলে ৫৪ রানের এক দুর্দান্ত লড়াকু ইনিংস খেলেন তিনি। মিডল অর্ডারে তার এই ফর্ম নির্বাচকদের ভরসা জোগাচ্ছে। এছাড়া ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা পেসার তাসকিন আহমেদ ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন।
বল হাতে অপ্রতিরোধ্য জিম্বাবুয়ের পেস জুটি
জিম্বাবুয়ের পেসার রিচার্ড এনগারাভা বর্তমানে ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন। টেস্টে অধিনায়কত্ব করে ৫ উইকেট, ওয়ানডেতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনিই ম্যাচসেরা হন। তার সঙ্গে ব্লেসিং মুজারাবানির গতি ও বাউন্স টাইগার শিবিরের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একাদশে রদবদলের হাওয়া
বাংলাদেশ দলে আজ দেখা যেতে পারে পরিবর্তন। স্পিন বিভাগ শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়াতে লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনকে একাদশে ফেরানো হতে পারে।
অন্যদিকে, স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের উইনিং কম্বিনেশন ভাঙার সম্ভাবনা কম থাকলেও ওপেনিংয়ে বেন কারানের টি-টোয়েন্টি অভিষেক হতে পারে আজ।
বুলাওয়ের উইকেট কেমন আচরণ করবে?
বুলাওয়ের পিচ সাধারণত স্পিনারদের জন্য সাহায্যকারী হলেও প্রথম ম্যাচে পেসাররাই ছড়ি ঘুরিয়েছেন। একদিকে এনগারাভা-মুজারাবানি যেমন সফল হয়েছেন, তেমনি বাংলাদেশের তরুণ গতি তারকা নাহিদ রানাও ৪ উইকেট নিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন। আজকের ম্যাচেও নতুন বলে পেসাররা সুবিধা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে খেলা যত গড়াবে স্পিনারদের ভূমিকা তত বাড়বে।
একনজরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান ও রেকর্ড
- বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে এটি ১০ম দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
- অতীতে জিম্বাবুয়ে মাত্র একবার (২০২২ সালে) বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছিল। আজ জিতলে সেটি হবে তাদের দ্বিতীয় সিরিজ জয়।
- প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪ উইকেট শিকার করে ব্লেসিং মুজারাবানি তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের যৌথ সেরা বোলিং ফিগার স্পর্শ করেছেন।
দুই অধিনায়কের বক্তব্য:
সিকান্দার রাজা (জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক): “আমাদের পেসাররা দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক পারফর্ম করছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আমরা যে শিক্ষা পেয়েছি, তা কাজে লাগিয়ে দলকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
তাওহীদ হৃদয় (বাংলাদেশ অধিনায়ক): “১৭১ রান তাড়া করার সামর্থ্য আমাদের ছিল, কিন্তু বড় কোনো জুটি গড়ে না ওঠায় আমরা পিছিয়ে পড়েছি। দ্বিতীয় ম্যাচে আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে শুরুতেই বড় পার্টনারশিপ গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।”


