বিজয় শোভাযাত্রায় যোগ দেবেন লাখো সমর্থক
দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব নিয়ে দেশে ফিরেছে স্পেন জাতীয় ফুটবল দল। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাদ্রিদের বারাখাস বিমানবন্দরে পৌঁছায় নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। রাজধানীজুড়ে তাদের বরণ করে নিতে প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটি, আর বিজয় শোভাযাত্রায় প্রায় ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইবেরিয়া এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন স্প্যানিশ ফুটবলাররা। বিমান থেকে নামার সময় দলের অধিনায়ক রদ্রি সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন। সেই মুহূর্তে বিমানবন্দরে উপস্থিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রোববার অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় স্পেন। এই সাফল্যে পুরো দেশে শুরু হয় আনন্দ-উল্লাস।
সোমবার সকালে মাদ্রিদের প্রধান সড়ক কাস্তেয়ানাজুড়ে আগের রাতের উদযাপনের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। রাস্তাজুড়ে পড়ে ছিল ক্যান, কাচের টুকরো ও বিভিন্ন আবর্জনা। অনেক সমর্থক রাতভর উৎসব শেষে সড়কের পাশেই ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল থেকেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিজয় শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে নেমে পড়েন।
মাদ্রিদের মেয়র হোসে লুইস মার্তিনেস-আলমেইদা বলেন, “উদযাপন আর ম্যাচের উত্তেজনার কারণে খুব একটা ঘুমাতে পারিনি।”
দেশে ফেরার পর প্রথমে স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপের সঙ্গে জারসুয়েলা প্রাসাদে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ফুটবলাররা। এরপর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের আমন্ত্রণে সরকারি বাসভবন লা মনক্লোয়ায় যাবেন তারা।
এরপর রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সিবেলেস স্কয়ার পর্যন্ত একটি খোলা ছাদের বাসে বিজয় শোভাযাত্রা করবেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেখানে খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। আয়োজকদের ধারণা, পুরো শোভাযাত্রার পথে প্রায় ১০ লাখ সমর্থক উপস্থিত থাকবেন। এ জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
৩২ বছর বয়সী সমর্থক ব্রুনো গনসালেস দেল ইয়েরো বলেন, “এমন মুহূর্ত তো বারবার আসে না। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন, তাই উদযাপন করতেই হবে।”
এই সাফল্যের মাধ্যমে অনন্য এক কীর্তিও গড়েছে স্পেন। ২০২৩ সালে নারী বিশ্বকাপ জয়ের পর এখন পুরুষ ও নারী-দুই বিভাগের বিশ্বকাপ ট্রফিই একই সঙ্গে স্পেনের দখলে।
২০৩০ সালে নিজ দেশেই বিশ্বকাপ শিরোপা রক্ষার সুযোগ পাবে স্পেন। সেবার পর্তুগাল ও মরক্কোর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে দেশটি।
আনন্দের মধ্যেও বিষাদের ছায়া
তবে আনন্দের মাঝেও এসেছে দুঃসংবাদ। পশ্চিমাঞ্চলীয় সিউদাদ রদ্রিগো শহরে উদযাপনের সময় একটি ফোয়ারার অংশ ধসে পড়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিনায় নেমে আসে হতাশার ছায়া। লিওনেল মেসিকে নিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেলেও দেশে ফেরার পর রানার্সআপ দলকেও সংবর্ধনা জানাতে বিপুলসংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে।
১০৪ ম্যাচের এই বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে উঠেছে স্পেন। আর সেই ঐতিহাসিক অর্জন উদযাপন করতে এখন প্রস্তুত পুরো দেশ।


