কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে যে উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে তার সম্পূর্ণ বিপরীত এক দৃশ্যের সাক্ষী হলো দেশটি। এবার হাতে ট্রফি ছিল না, ছিল না বিজয় মিছিল কিংবা উন্মুক্ত বাসে লাখো মানুষের সঙ্গে উদ্যাপন। ছিল শুধু অপূর্ণ স্বপ্নের কষ্ট, তবুও ছিল অকৃত্রিম ভালোবাসা। কারণ, রানার্সআপ হয়েও লিওনেল স্কালোনির দলকে আপন করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা।
স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শিরোপা হাতছাড়া করার একদিন পর দলের একটি বড় অংশ নিউইয়র্ক থেকে আর্জেন্টিনার উদ্দেশে রওনা দেয়। তাদের বহনকারী বিমান বুয়েনস আইরেসের এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায়।
তবে পুরো দল একসঙ্গে দেশে ফেরেনি। বিশ্বকাপ শেষে খেলোয়াড়দের একটি অংশ সরাসরি নিজ নিজ ক্লাব বা বিশ্রামের গন্তব্যে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে আলবিসেলেস্তেদের প্রত্যাবর্তন ছিল অনেকটাই অসম্পূর্ণ।
সবচেয়ে বড় অনুপস্থিতির নাম অবশ্যই লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি। তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যান এবং পরে পরিবারের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। মেসির সঙ্গে রদ্রিগো ডি পলও আর্জেন্টিনায় ফেরেননি। এছাড়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এনজো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, নাহুয়েল মোলিনা, ফ্রাঙ্কো রুলি, নিকো পাজসহ আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ও দলের সঙ্গে একই বিমানে ফেরেননি; তারা সরাসরি ক্লাব কিংবা ছুটির গন্তব্যে রওনা দেন।

তবুও যারা ফিরেছেন, তাদের অভ্যর্থনা জানাতে এজেইজা বিমানবন্দরের বাইরে সকাল থেকেই জড়ো হন শত শত সমর্থক। কারও হাতে আর্জেন্টিনার পতাকা, কারও গায়ে বিশ্বকাপজয়ী দলের জার্সি। অনেকেই বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে ছিলেন শুধু এক ঝলক প্রিয় ফুটবলারদের দেখার জন্য। বিমানবন্দর থেকে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) প্রশিক্ষণকেন্দ্র পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধ হয়ে তারা হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
এবার অবশ্য কোনো গণসংবর্ধনা হয়নি। বিশ্বকাপ জয়ের পর যেমন রাজধানীজুড়ে উৎসব হয়েছিল, এবার তেমন কোনো আয়োজন করা হয়নি। আর্জেন্টাইন সরকার জাতীয় ছুটির বিষয়টিও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেনি। এএফএও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ফাইনালের হতাশার পর বড় ধরনের জনসমাগম বা উদ্যাপন হবে না।
তবে উৎসব না থাকলেও ভালোবাসার অভাব ছিল না। সমর্থকদের কণ্ঠে ছিল একটাই বার্তা-“ধন্যবাদ।” অনেকের চোখে জল, আবার অনেকের মুখে গর্বের হাসি। কারণ, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা এবং শিরোপার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করাকেই তারা বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।


