বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়েই নিজের শহর রোজারিওতে ফিরেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। স্পেনের কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পর কয়েক দিনের বিশ্রাম কাটাতে মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট লডারডেল থেকে ব্যক্তিগত বিমানে আর্জেন্টিনায় পৌঁছান তিনি।
স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২৭ মিনিটে মেসির ব্যক্তিগত বিমান রোজারিওর কাছাকাছি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ভোররাত থেকেই শত শত সমর্থক জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে বিমানবন্দরের বাইরে অবস্থান নেন। অনেকেই আশা করেছিলেন, বিশ্বকাপ শেষে হয়তো একবার হলেও তাদের সামনে এসে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাবেন প্রিয় তারকা। কিন্তু সেটি আর হয়নি।
সরাসরি গাড়িতে মেসি
বিমান থেকে নেমেই মেসি কোনো জনসমক্ষে না এসে সরাসরি অপেক্ষমাণ একটি এসইউভি গাড়িতে উঠে পড়েন। সেই গাড়িতে করেই স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো এবং তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি রোজারিওর পাশের অভিজাত আবাসিক এলাকা ফুনেসে চলে যান। পুরো বিশ্বকাপজুড়েই মেসির পরিবার উত্তর আমেরিকায় তার সঙ্গে ছিল।
বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ সমর্থকদের মধ্যে আবেগের কমতি ছিল না। ভোর সাড়ে তিনটা থেকেই অনেকেই অবস্থান নেন। আর্জেন্টিনার জার্সি পরা দুই কিশোরীর হাতে ছিল একটি হৃদয়স্পর্শী ব্যানার, যাতে লেখা ছিল, ‘মেসি, তুমি একজন কিংবদন্তি। আমাদের হৃদয়ে আনন্দ এনে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। পুরো দেশ তোমাকে ভালোবাসে।’ মেসিকে কাছ থেকে দেখতে না পারলেও তার গাড়ির এক ঝলক দেখেই সন্তুষ্ট হতে হয়েছে অধিকাংশ ভক্তকে।
মেসির জন্য অপেক্ষা
রোজারিওতে মেসির জন্য অপেক্ষা করছিলেন তার ৬৮ বছর বয়সী বাবা হোর্হে মেসি। বিশ্বকাপ চলাকালেই পরিবার জানিয়েছিল, তিনি একটি অনির্দিষ্ট অসুস্থতার চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাই বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোই এখন মেসির প্রধান অগ্রাধিকার।

এদিকে, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যেই দেশে ফিরেছে। প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বে ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের ১৫ জন খেলোয়াড় সোমবার চার্টার্ড বিমানে বুয়েনস আইরেসের এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আলবিসেলেস্তেরা।
মেসির তৃতীয় ফাইনাল
এই ফাইনাল ছিল মেসির ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, এর আগে তিনি ২০১৪ ও ২০২২ সালেও ফাইনাল খেলেছিলেন। এবারের আসরে তিনি আট গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ১০ গোল করে শীর্ষস্থান দখল করেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও এমবাপ্পে ২২ গোল নিয়ে সবার ওপরে উঠে গেছেন, যেখানে মেসির গোলসংখ্যা ২১।
শিরোপা হাতছাড়া হলেও আর্জেন্টিনার কোটি কোটি মানুষের কাছে মেসির মর্যাদায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিমানবন্দরের সেই ভোরের অপেক্ষা এবং সমর্থকদের ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।


