ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর উদযাপনের একটি মুহূর্তই এখন ডেকে এনেছে নতুন বিপদ! স্প্যানিশ ভাষায় মালভিনাস লেখা সেই ব্যানার প্রদর্শন ঘিরে আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলারদের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ার হুমকির মুখে। কেননা প্রিমিয়ার লিগ তারকাদের ভিসা বাতিলের জোর দাবী উঠেছে। আর যদি সত্যিই এমনটা হয়, তাহলে ২০২৬-২৭ মৌসুমে নিজেদের ক্লাবে ফিরতে পারবেন না, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো কিংবা এনজো ফার্নান্দেজ?
ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার আনন্দে তখন মাতোয়ারা আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচের পর মাঠে দেখা যায় একটি রাজনৈতিক বার্তা সম্বলিত ব্যানার। যেখানে লিখা ছিলো ‘Las Malvinas son Argentinas’, অর্থাৎ ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’। এই ব্যানার ঘিরেই এখন উত্তপ্ত যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন।
বিষয়টি এখন শুধু ফুটবল মাঠেই আর সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব পড়তে পারে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা আর্জেন্টাইন তারকাদের ওপরও! বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লিসান্দ্রো মার্তিনেস, টটেনহ্যামের ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং চেলসির এনজো ফার্নান্দেজের নাম। তবে বিতর্কের আওতায় আরও কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়ের নামও এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এই ঘটনায় যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দাবী উঠেছে, যেসব আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় যুক্তরাজ্যে খেলেন এবং এই রাজনৈতিক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন, তাদের ভিসা বাতিল করা উচিত। তবে এখানে বড় প্রশ্ন, রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শনের কারণে কি সত্যিই একজন প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলারের ভিসা বাতিল করা সম্ভব?
ইতিহাস বলছে, এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ বহু পুরোনো। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধও হয়েছিল। যুদ্ধে ব্রিটেন জয়ী হলেও, দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনার দাবি আজও বহাল। ফলে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর এমন রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শনের ব্রিটিশদের একাংশ এখন ক্ষোভে ফুঁসছে।
এদিকে এই ঘটনায় নড়চড়ে বসেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাও। স্টেডিয়াম কোড অব কন্ডাক্টে রাজনৈতিক, আপত্তিকর কিংবা বৈষম্যমূলক ব্যানার নিষিদ্ধ। ফলে আর্জেন্টিনার এই কর্মকাণ্ড নিয়ম ভঙ্গ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ফিফা কর্তারা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি।
কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন অন্য জায়গায়। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু একটি রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলারের ওয়ার্ক ভিসা বাতিল করা আইনগতভাবে সহজ নয়। অর্থাৎ রাজনৈতিক চাপ যতই বাড়ুক, শুধু এই ঘটনার কারণে লিসান্দ্রো মার্তিনেস, রোমেরো বা এনজো ফার্নান্দেজের ভিসা বাতিল হয়ে যাবে এমনটাও নিশ্চিত নয়।
একদিকে ফিফার নিয়ম, অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ। এর মাঝখানে পড়ে গেছে ফুটবল! বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার উদযাপন এখন পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিতর্কে। ফিফা কী সিদ্ধান্ত নেয়, আর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষই বা কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না, সেদিকেই সবার এখন নজর। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, বিশ্বকাপের মাঠে আর্জেন্টিনার জয় হয়তো ইতিহাসে লেখা থাকবে, কিন্তু সেই জয়ের পর ফকল্যান্ডস ব্যানার বিতর্কও হয়ে থাকবে এই বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়।


