প্রায় ছয় বছর বাংলাদেশ দলের স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মারিও ভিল্লাভারায়ন। জাতীয় দলের ফিটনেস ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই শ্রীলঙ্কান বিশেষজ্ঞ এবার ফিরছেন নতুন দায়িত্বে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে নিয়োগ দিয়েছে রিহ্যাব ম্যানেজার হিসেবে।
সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটারের চোট, বিশেষ করে লিটন কুমার দাসকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং বিসিবির মেডিকেল বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, পুনর্বাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেই ভিল্লাভারায়নকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তামিম বলেন, মেডিকেল বিভাগকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের। তার ভাষায়, সংশ্লিষ্টরা ভালো না খারাপ-সেটি নয়, বরং পুরো ব্যবস্থাপনাকেই আরও উন্নত করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই রিহ্যাব ম্যানেজার হিসেবে মারিও ভিল্লাভারায়নকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
চান্দিকা হাথুরুসিংহের প্রথম মেয়াদে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ দলের স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন ভিল্লাভারায়ন। পরে প্রধান কোচ পরিবর্তন হলেও তিনি দায়িত্বে বহাল ছিলেন। তার কাজে সন্তুষ্ট ছিল বিসিবি, ফলে কয়েক দফায় নবায়ন হয় তার চুক্তি।
তবে ২০২০ সালের শুরুতে তার বাংলাদেশ অধ্যায়ের ইতি ঘটে। আইপিএলের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য তিনি ছুটি চাইলেও বিসিবি তাতে সম্মতি দেয়নি। এরপর বোর্ড ছেড়ে আইপিএলে যোগ দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট এবং শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন জায়গায় স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন। নতুন চুক্তিতে আইপিএলের সময় ছুটির সুযোগ থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বিসিবি।
খেলোয়াড়ি জীবনেও সফল ছিলেন ভিল্লাভারায়ন। ডানহাতি এই পেসার ১১৬টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে নিয়েছেন ৩৭৮ উইকেট। এক ইনিংসে তার সেরা বোলিং ১৫ রানে ৯ উইকেট। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলে খেললেও জাতীয় দলে সুযোগ হয়নি। পরে অস্ট্রেলিয়ায় কোচিং শিক্ষা গ্রহণ করে পেশাদার স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।
ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বিদেশি ফিজিও নিয়োগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তামিম। তিনি বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে খেলোয়াড়দের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা আরও উন্নত হয়।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটারদের চোট ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তারও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। লিটন কুমার দাস ও শেখ মেহেদী হাসানকে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচক কমিটি, মেডিকেল বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে-ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও কেন লিটনকে জিম্বাবুয়ে সফরে পাঠানো হয়েছিল এবং পরে কীভাবে ভিন্ন ধরনের মেডিকেল রিপোর্ট সামনে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে বোর্ড।
তামিমের ভাষায়, দায়িত্ব পালনে কেউ গাফিলতি করলে তার পরিচয় যাই হোক না কেন, জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। অতীতে নির্বাচক, ফিজিও ও মেডিকেল বিভাগের সবাইকে একসঙ্গে জবাবদিহির আওতায় আনার নজির খুব একটা ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
লিটনের চোট প্রসঙ্গে তামিম আরও বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালের স্ক্যান রিপোর্টেও উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। তবে চিকিৎসা ও পরীক্ষার মান আরও উন্নত করতে বর্তমান ব্যবস্থার পাশাপাশি বিকল্প চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান খুঁজে দেখছে বিসিবি।


