বিশ্বকাপের শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে মাঠে। এবার মাঠের বাইরের দুই বিতর্কিত ঘটনাকে ঘিরে শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (ইসলাস মালভিনাস) ইস্যুতে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শন এবং ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই দুটি ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে পরে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলারের আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর মাঠেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথমে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি এবং স্পেন অধিনায়ক রদ্রির মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন লিয়ান্দ্রো পারদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়াকে ধাক্কা দেন। পরে গাভি প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলে তাঁর সঙ্গেও শারীরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে পারদেসের বিরুদ্ধে।
প্রশ্ন উঠেছে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা নিয়ে। সেই ঘটনার জেরেই পারদেস, নাহুয়েল মোলিনা এবং আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফের সদস্য রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগেই সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আরেকটি বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়রা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ফিফার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তদন্ত শুরু করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ফুটবলের মাঠে রাজনৈতিক বার্তা বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিরুৎসাহিত করা হয়। সেই নীতিমালার আলোকে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বক্তব্য শুনে পরবর্তী সিদ্ধান্ত
ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি উভয় ঘটনায় সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়, কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য শুনে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক জরিমানা কিংবা আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এমনও দাবি করা হয়েছে যে, ফকল্যান্ড ইস্যুর জেরে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য নিজস্ব প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে। তবে এ ধরনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
শুধু খেলোয়াড়ই নন, আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চালাচ্ছে ফিফা। ফাইনাল চলাকালে বৈষম্যমূলক মন্তব্য, গ্যালারি থেকে বস্তু নিক্ষেপ এবং অসদাচরণের অভিযোগও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।


