বিশ্বকাপ ফাইনালের হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের ১০ দিন পর ইন্টার মায়ামির অনুশীলনে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলে অবস্থিত ক্লাবের ট্রেনিং সেন্টারে আর্জেন্টাইন তারকার ফেরার ছবি প্রকাশ করেছে ইন্টার মায়ামি।
ইএসপিএনের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯ বছর বয়সী মেসি শতভাগ ফিট অবস্থায় দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন। তবে কবে তিনি আবার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে নামবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচের পর কয়েক দিন নিজ শহর রোজারিওতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান মেসি। সেখানে অসুস্থ বাবা হোর্হে মেসির সঙ্গেও সময় কাটিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপ দূর্দান্ত পারফরম্যান্স
বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে মেসি ছিলেন দুর্দান্ত। ৮ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টেনে তুলেছিলেন ফাইনালে। একাধিক নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের নায়কও ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ ম্যাচে আর জাদু দেখাতে পারেননি। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে হারের পর চোখের জলেই শেষ হয় তার বিশ্বকাপ অভিযান। সেই সঙ্গে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপাও জিতেছিলেন মেসি। এবারও স্বপ্ন ছিল টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা পূরণ হয়নি।
ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা
ফাইনালের পর ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তায় মেসি লিখেছিলেন, ‘এই যন্ত্রণা অনেক গভীর, এই ক্ষত সারতে সময় লাগবে। তবে ভালো স্মৃতিগুলোও সঙ্গে থাকবে। যেসব ম্যাচে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি, সর্বস্ব দিয়ে লড়েছি, পুরো দেশের সমর্থন পেয়েছি-এসব আমাদের মনে চিরকাল থাকবে। এই দল আবারও বিশ্বের সেরাদের কাতারে জায়গা করে নিয়েছে।’
বিশ্বকাপের পর বিশ্রামে থাকায় ইন্টার মায়ামির হয়ে শিকাগো ফায়ার ও সিএফ মন্ট্রিয়ালের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলেননি মেসি। আগেই নিশ্চিত করা হয়েছিল, তিনি এমএলএস অল-স্টার ম্যাচেও অংশ নেবেন না।
শনিবার মায়ামির পরবর্তী ম্যাচ
আগামী শনিবার এমএলএসে কলম্বাস ক্রুকে আতিথ্য দেবে ইন্টার মায়ামি। এরপর ৫ আগস্ট লিগস কাপের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর ক্লাব অ্যাতলেতিকো দে সান লুইসের মুখোমুখি হবে দলটি। তবে ওই ম্যাচগুলোর কোনোটিতে মেসি খেলবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মায়ামির কোচ গিয়ের্মো হোয়োস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মেসি কিংবা আর্জেন্টিনা সতীর্থ রদ্রিগো দি পলকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চান না।
হোয়োস বলেন, ‘বিশ্রাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত প্রায় ৫০ দিন তারা বিশ্বকাপের তীব্র চাপের মধ্যে ছিল। তাই শারীরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফিরিয়ে আনার কোনো তাড়াহুড়া নেই।’


