ফিফা বিশ্বকাপ
২০২৬ কবিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংর্ঘষে জড়ানোকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনাসহ টুর্নামেন্ট জুড়ে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে ফিফা।
নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফাইনাল শেষে উভয় দলের বিপক্ষে যে হাতাহাতি হয় তা খতিয়ে দেখতে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতাবিষয়ক একজন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয় ফিফা। ফাইনালে ১-০ গোলে হারের পর স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আর্জেন্টিনার একাধিক খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ সংঘর্ষে জড়ায়। সপ্তাহব্যাপী তদন্ত শেষে ফিফা এখন অনেকটাই পরিস্কার কিছু ধারনা পেয়েছে ঘটনার। ফিফার মতে ‘শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপর ফিফা শৃঙ্খলাবিধি কমিটি যথাসময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যথাসময়ে জানাবে।

ফাইনালের শেষ বাঁশির পর স্পেনের খেলোয়াড়েরা উদ্যাপনের জন্য মাঠে ছুটে যাওয়ার সময় তাদর মিডফিল্ডার গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তাঁর মুখেও আঘাত করেন। পাশাপাশি স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াকেও আঘাত করে বসেন পারেদেস।
ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ১৪ নম্বর ধারার আওতায় প্রসিকিউটরের সুপারিশের ভিত্তিতে নাহুয়েল মলিনার বিরুদ্ধে ২টি, লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে ৩টি এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে ১টি অভিযোগ তদন্ত করবে।
স্পেনের গাভির শাস্তি: মলিনা ১৪ নম্বর ধারায় খেলোয়াড় সুলভ আচরণ বিরোধী একটি অভিযোগেও শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। একই অভিযোগ আনা হয়েছে আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা এবং স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধেও। সংঘর্ষের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ন্যূনতম তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান রয়েছে।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে একাধিক ম্যাচে বিভিন্ন ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে শৃঙ্খলাবিষয়ক কার্যক্রম শুরু করেছে ফিফা। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে খেলাধুলার চেতনাবিরোধী কার্যক্রম (১৩ নম্বর ধারা), দলের অসদাচরণ (১৪ নম্বর ধারা), বৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণ (১৫ নম্বর ধারা) এবং ম্যাচে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার নিয়ম ভঙ্গ (১৭ নম্বর ধারা)।
যত অভিযোগ আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে: বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, নির্ধারিত সময়ের পরে ম্যাচ শুরু, দল ও দর্শকদের অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন এবং দর্শকদের মাঠে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়েও ফিফা তদন্ত করছে।
ফকল্যান্ড: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্ব দাবি করে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ব্যানারটিতে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল, ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।’ খেলাধুলার কোনো আসরকে খেলাধুলা বহির্ভূত প্রদর্শনী বা প্রচারের জন্য ব্যবহার করলে তাতে শৃঙ্খলাবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন হতে পারে বলে ফিফা জানিয়েছে। ২০১৪ সালে একবার স্লোভেনিয়ার বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচের আগে ফুটবলাররা একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শন করায় আর্জেন্টিনাকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছিল।
সারকথায় বলা যায়, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এতসব অভিযোগ প্রমান হলে ফিফা কি পুরোপুরি শাস্তি প্রদান করবে নাকি কিছুটা ছাড় দিয়ে ব্যবস্থা নিবে তা এক টা প্রশ্ন থেকেই যায়।


