অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে শান্তর প্রত্যাশা

দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে আজ উড়াল দেবে টাইগাররা। এই সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটি শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনে এবং দ্বিতীয় টেস্টটি হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ জিতবে, ড্র করবে নাকি শুধু সম্মান নিয়ে ফিরবে-এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

তবে তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, দলের মূল লক্ষ্য হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরুর আগেই সাংবাদিকদের উল্টো প্রশ্ন করেন শান্ত। জানতে চান, অস্ট্রেলিয়া সফরে সংবাদমাধ্যমের প্রত্যাশা কী। একজন সাংবাদিক ‘ভালো খেলা’র কথা বললে শান্ত হেসে বলেন, ‘আমি এমন কথা বললে পছন্দ হতো?’

পরে যখন জানানো হয়, প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেছেন দল ‘সম্মান নিয়ে ফিরতে’চায়, তখনই শুরু হয় মূল সংবাদ সম্মেলন। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে কীভাবে আমরা ওখানে ভালো ক্রিকেট খেলে সম্মান অর্জন করতে পারি। যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতেও তারা আমাদের খেলতে আমন্ত্রণ জানাবে।’তবে সম্মানজনক পারফরম্যান্সের কথা বললেও জয়ের লক্ষ্য থেকে সরে আসছেন না শান্ত। তাঁর ভাষায়, ‘প্রতিটি ম্যাচই আমরা জেতার জন্য খেলি। তবে আমরা কতটা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং ওদের কতটা কঠিন সময় দিতে পারি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

যদি আমরা দুটি ভালো টেস্ট খেলতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি হবে।’সিরিজের আগে প্রস্তুতি নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বাংলাদেশ অধিনায়ক। জুলাইজুড়ে বৃষ্টির কারণে অনুশীলনে ব্যাঘাত ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও বিকল্প উপায়ে প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে দল।‘বৃষ্টির কারণে সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। তারপরও মিরপুরের উইকেট ও বোলিং মেশিন ব্যবহার করে প্রস্তুতির চেষ্টা করেছি। প্রস্তুতির দিক থেকে কিছুটা ঘাটতি তো আছেই,’ বলেন শান্ত।

অস্ট্রেলিয়া সফর বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যও বহন করছে। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম দেশটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রায় দুই যুগ অপেক্ষার অবসান ঘটছে এই সিরিজ দিয়ে। এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশের কয়েকটি প্রজন্ম অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট না খেলেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করেছে। এমনকি ২০ বছরের বেশি টেস্ট ক্যারিয়ার আর শতাধিক ম্যাচ খেলা মুশফিকুর রহিমও এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলবেন। এমন একটি ঐতিহাসিক সফরে নেতৃত্ব দিতে পারাকে সৌভাগ্যের মনে করছেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘খুবই ভাগ্যবান যে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাদের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে পারছি।

গত ২৩ বছরে আমাদের আরও বেশি ম্যাচ খেলা উচিত ছিল, যদিও এত দিন টেস্টে আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারিনি।’বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক উন্নতির কারণে সমর্থকদের প্রত্যাশাও বেড়েছে বলে মনে করেন শান্ত। তাঁর মতে, এটি দলের জন্য ইতিবাচক দিক।‘এখন বাংলাদেশের মানুষ যেকোনো দলের বিপক্ষে জয়ের আশা করে। ২৩ বছর আগে হয়তো এমন প্রত্যাশা ছিল না।

এটা আমাদের টেস্ট ক্রিকেটের বড় অর্জন,’ বলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে পেসারদের ওপরও পূর্ণ আস্থা রাখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাঁর বিশ্বাস, দলের পেস আক্রমণ ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য রাখে। অভিজ্ঞ দুই স্পিনারও সেই চ্যালেঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। আজ রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। যেখানে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের সামর্থ্যের পরীক্ষা দেবে টাইগাররা।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles