বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। এবার সেই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উয়েফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিফার এই প্রস্তাব অনুমোদন পেলে ইউরোপের ৫৫টি সদস্যদেশ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জনের পথে হাঁটতে পারে।
জরুরি বৈঠকের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে উয়েফা জানায়, সদস্যদেশগুলোর সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোর মালিকানায় বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত উয়েফাভুক্ত কোনো জাতীয় দল ফিফার টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না।
এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। কারণ সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে ইউরোপীয় দলগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট। সর্বশেষ আসরের আট কোয়ার্টার ফাইনালিস্টের ছয়টিই ছিল ইউরোপের।
স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানির মতো দল ছাড়া বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতামূলক মানের পাশাপাশি বাণিজ্যিক আকর্ষণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে বলে মনে করছে উয়েফা।
সম্প্রতি ফিফা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নাল, যার নেতৃত্বে আছেন জশুয়া কুশনার।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্যদেশগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ২০২৭-৩১ মেয়াদে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির অনুদান ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলার করা হবে। পাশাপাশি সমর্থনকারী সদস্যদেশগুলোকে এককালীন আরও ২ কোটি ডলার দেওয়া হবে।
অন্যদিকে প্রস্তাবটি অনুমোদন না পেলে অনুদান দাঁড়াবে ১ কোটি ডলারে। অর্থাৎ সমর্থন না দেওয়া সদস্যদেশগুলো সম্ভাব্যভাবে ৩ কোটি ডলার কম অর্থ পাবে। উয়েফার অভিযোগ, এই আর্থিক কাঠামোর মাধ্যমে সদস্যদেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
সংস্থাটি বলেছে, ‘জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর সামনে এক ধরনের আল্টিমেটাম রাখা হয়েছে। হয় বিশ্বকাপের মালিকানার একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিতে হবে, নয়তো আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি নিতে হবে। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং চাপ প্রয়োগের কৌশল।’
উয়েফার মতে, বিশ্বকাপ কোনো বাণিজ্যিক সম্পদ নয়, যা বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা যাবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘যেদিন থেকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা ফিফার প্রতিযোগিতার মালিকানায় অংশ নেবে, সেদিন থেকে সিদ্ধান্তগুলো ফুটবলের স্বার্থে নয়, বরং শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফার কথা বিবেচনা করেই নেওয়া হবে।’
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ‘ফুটবলের ভবিষ্যৎ এমন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না, যাদের প্রধান লক্ষ্য লাভের পরিমাণ বাড়ানো। বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবলের সম্পদ, এটি বিক্রির কোনো পণ্য নয়।’
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ফিফার ২১১ সদস্যদেশের ভোটে এই প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। অনুমোদনের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের পাশাপাশি ফিফা কাউন্সিলের সমর্থনও প্রয়োজন। তাই ইউরোপের বাইরে অন্যান্য কনফেডারেশনগুলোর সমর্থন আদায় এখন উয়েফার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


