দীর্ঘ দেড় বছর পর আবারও বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ও সাবেক অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের পর সিলেকশন কমিটির প্রথম সভায় এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে ছয়জন নতুন খেলোয়াড়কে ক্যাম্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম জিমি।
বাংলাদেশ হকির অন্যতম সফল খেলোয়াড় জিমি গত দেড় বছর জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। আগের ফেডারেশনের সময় ট্রায়াল বা ক্যাম্পে সুযোগ না পেয়েই বাদ পড়েছিলেন তিনি। সে সময় ৩২ বছরের বেশি বয়সী খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা না করার অলিখিত নীতির কারণে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডকে উপেক্ষা করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা হলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।
আবার জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ৩৮ বছর বয়সী এই হকি তারকা।
জিমি বলেন, ‘সিলেকশন কমিটি আমাকে বিবেচনা করেছে। এখন নিজের যোগ্যতা আবারও প্রমাণ করার সুযোগ পেলাম। মাঠে নেমে সেরাটা দিতে চাই। গত দেড় বছরে যারা হকি ও খেলোয়াড়দের স্বার্থে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমি মনে করি এই সিদ্ধান্তে তাদের আনন্দই সবচেয়ে বেশি।’
আগামীকাল বাংলাদেশে পৌঁছাবেন জার্মান কোচ গেরহার্ড পিটার। এর আগেও তার অধীনে খেলেছেন জিমি। তবে এবার নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন তিনি।
‘শনিবার থেকে অনুশীলন শুরু হবে। পিটারের সঙ্গে আগেও কাজ করেছি, কিন্তু এবার সবকিছুই নতুনভাবে শুরু করতে চাই,’ বলেন জিমি।
গত ৫ জুলাই সাবেক জাতীয় খেলোয়াড় ও কোচ মশিউর রহমান বিপ্লবের অধীনে শুরু হয় জাতীয় দলের ক্যাম্প। পরে নতুন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর গঠিত হয় তিন সদস্যের সিলেকশন কমিটি।
সিলেকশন কমিটির সদস্য ও ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, জাতীয় দলে কোনো বৈষম্য থাকবে না। তাই গত এক-দেড় বছরে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যারা সুযোগ পায়নি, তাদের মধ্য থেকে ছয়জনকে ক্যাম্পে ডাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
নতুন করে ক্যাম্পে ডাক পাওয়া খেলোয়াড়রা হলেন আবু সাঈদ নিপ্পন, মো. নাইম উদ্দিন, মো. শিশির, পুস্পর খীসা মিমো, রাসেল মাহমুদ জিমি এবং শহিদুল হক সৈকত।
ফেডারেশনের ভাষ্য, এশিয়ান গেমসের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরে দেশের সেরা ফল অর্জনের লক্ষ্যেই অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, নতুন অ্যাডহক কমিটিতে সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন জিমি। তবে ফেডারেশনের দাবি, জাতীয় দলে তার প্রত্যাবর্তন হয়েছে শুধুমাত্র পারফরম্যান্স ও ফিটনেসের ভিত্তিতে। নিজেও ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টা স্মরণীয় করে রাখতে চান এই কিংবদন্তি।
জিমি বলেন, ‘অনেক বছর ধরে দেশ-বিদেশে হকি খেলেছি। এখন চাই মাঠ থেকেই সুন্দরভাবে বিদায় নিতে।’


