লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হলেও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক এখনো জাতীয় দল থেকে অবসরের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। আর সেই নীরবতার মাঝেই মেসিকে ঘিরে আবেগঘন এক আবেদন জানিয়েছেন বলিভিয়ার সাবেক ফুটবলার ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সদস্য মার্কো অ্যান্টোনিও।
আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্রীড়া রেডিও অনুষ্ঠান ‘সুপার দেপোর্তিভো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যান্টোনিও বলেন, তিনি মেসিকে ২০৩০ বিশ্বকাপেও দেখতে চান। তাঁর বিশ্বাস, ফুটবল এখনও এমন এক প্রতিভাকে হারানোর জন্য প্রস্তুত নয়।
আবেগভরা কণ্ঠে বলেন বলিভিয়ার সাবেক এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমি ওকে পরবর্তী বিশ্বকাপে খেলতে দেখছি। আশা করি সে অবসর নেবে না। তাকে অবশ্যই পরবর্তী বিশ্বকাপে থাকতে হবে।’
মেসির প্রশংসায় অ্যান্টোনিও
বিশ্বকাপজুড়ে মেসির পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসাও করেন অ্যান্টোনিও। তাঁর মতে, ৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টিনার ‘১০ নম্বর’ জার্সিধারী ফুটবলার যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, তা বিস্মিত করেছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে।
অ্যান্টোনিওর ভাষায়, ‘আমার কাছে এটি মেসির সেরা বিশ্বকাপ। আগের যেকোনো আসরের তুলনায় এবার সে আরও পরিণত, আরও প্রভাবশালী ছিল। বাকি সব খেলোয়াড়ের চেয়ে তার পারফরম্যান্সের মান ছিল অনেক উঁচুতে।’
২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি
২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি শুধু নেতৃত্বই দেননি, মাঠেও ছিলেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা। টানা আট ম্যাচে গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিরল এক কীর্তি গড়েন। পুরো আসরে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হলেও মেসির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়।

মেসির অবসর ঠেকাতে অভিনব এক প্রস্তাবও দিয়েছেন অ্যান্টোনিও। তাঁর মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে অন্তত ১০ লাখ গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে মেসিকে জাতীয় দলে খেলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো উচিত।
এফএম দেল সোলকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বের মানুষকে নিয়ে একটি চিঠি লেখা উচিত। সবাই স্বাক্ষর করবে এবং তাকে বলবে-অবসর নিও না। ভাবুন তো, মেসিকে ছাড়া বিশ্ব ফুটবল কেমন হবে? অনেক কিছুই আগের মতো থাকবে না। আমার বিশ্বাস, মেসিও এখনো অবসর নিতে চান না।’
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল এই তারকাকে ঘিরে এমন আবেগ নতুন নয়। দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড, শিরোপা ও স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন মেসি। তাই প্রতিপক্ষ দেশের একজন সাবেক বিশ্বকাপারের মুখেও যখন শোনা যায়, ‘মেসিকে ছাড়া বিশ্ব ফুটবল অসম্পূর্ণ’, তখন বোঝা যায় তাঁর প্রভাব কোনো দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়।


