ফুটসাল লিগ বাংলাদেশ ২০২৫-২৬
মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ফুটসালে মেয়েদের ২য় ম্যাচ টা ছিল সানজিদাময়, টেকভিল এফসি বনাম জেনন এফসি‘র লড়াই। টেভিলের হয়ে সানজিদার সাথে খেলায় আরো আলো ছড়িয়েছেন অনামিকা ত্রিপুরা ও অ-২০ দলের ফুটবলার সোহাগী কিসকু। মূলতঃ এই তিন ত্রয়ীর প্রয়াসে প্রথমার্ধে আক্রমনের পর আক্রমন করে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল জেনন এফসির খেলোয়াড়দের তবে অধিনায়ক অন্তরা রক্ষণভাগের অতন্ত্র প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন জেননের হয়ে তা না হরে গোল সংখ্যা এক এর জায়গা আরো ২ বা ৩ হতে পারতো। তবে দুর্ভাগ্য টেকভিলের যে তারা খেলায় প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেও মাত্র একটি গোলের দেখা পেয়েছে প্রথম অর্ধে। টেকভিলের অনামিকা বাম প্রান্ত দিয়ে বারবার দুর পাল্লার শট নিয়েছে কিন্তু বেশিরভাগ শট অফ টার্গেট হয়েছে আর জাতীয় দলের খেলোয়াড় সানজিদা আখতার ডান প্রান্ত ধরে খেলে পেনাল্টি এরিয়ার মধ্যে ঢুকে গোল করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েও ম্যাচে প্লে-মেকারের ভূমিকা পালন করে পুরো মাঠ খেলে ফুটসালে মেতেছিলেন আর পিয়াসের গোলে জেনন এফসিকে হারিয়েছে টেকভিল।

২য় অর্ধের শুরুটা হয়েছে টেকভিলের আক্রমন দিয়ে এবং শুরুতেই ২য় গোল পেয়ে যায় অনামিকা ত্রিপুরা। এরপর ১০ মিনিটে এসে সানজিদার অ্যাসিস্ট থেকে রনজনা দলের ৩য় গোল করে ৩-০ গোলের ব্যবধান গড়ে। সানজিদা ম্যাচে ছোট ছোট বিরতি নিয়ে খেলে গেম মেকারের ভূমিকা পালন করেন। খেলার শেষের দিকে এসে সানজিদার ২য় অ্যাসিস্ট থেকে অনামিকা নিজের হ্যাট্টিক পূর্ণ করলে জেনন এফসির জয়ের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। টেকভিলের ৪-০ গোলের জয়ের দিনে হ্যাট্টিককারি অনামিকা প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।

পুরুষদের ফুটসাল ম্যাচেও ছিল টেকভিল এফসির দাপট, প্রথম অর্ধ দু-দল বেশ আক্রমণাত্মক ফুটসাল খেললেও গোল শুন্যতে শেষ হয়। তবে টেকভিল জেনন এফসির বিপক্ষে আক্রমনে কিছুটা এগিয়ে ছিল। দারুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে উভয় দলের মধ্যে। টেকভিলের মশিউর, অধিনায়ক মিলন, ইফতি আর পিয়াসের আক্রমনে ঠেকাতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে জেনন এফসির খেলোয়াড়রা তবে জেনন এফসির হৃদয় সমতা সুচক গোল করলে ম্যাচের উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং আক্রমন ও প্রতি আক্রমনে খেলা চলতে থাকলে টেকভিল ২য় গোল পেলে গোলের জন্য মরিয়ে হয়ে খেলতে থাকে বিশেষ করে জেননের শান্ত, রাকিবুল, হৃদয় আর সাইফরা ২য় অর্ধে এসে জেননের আক্রভাগে সাইফ যোগ হওয়াতে ২য় গোলটাও পেয়ে যায় জেনন সাইফের পা থেকে। আর তাতে সমতা ফেরার পর সমান তালে উভয় দল আক্রমন করতে থাকে।
২-২ গোলের সমতা নিয়ে খেলা চলতে থাকলে যেকোন দল খেলায় জয় লাভ করবে এমন পরিস্থিতিতে শেষের দিকে জেননের প্রথম গোল দাতা হৃদয় লাল কার্ড দেখে মাঠ ত্যাগ করলে বেশী খেলোয়াড়ের উপস্থিতির সুবিধা নিয়ে ৩ নম্বর গোলটি করেন টেকভিলের পিয়াস তারপর জেনন পিছিয়ে পড়লে চেষ্টা করেও ম্যাচে ফেরা হয়নি সময়ের অভাবে ফলে ৩-২ গোলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই আর টেকভিলের জয়ের মাধ্যমে শেষ হয় দিনের ৪র্থ ম্যাচ।

এদিকে ফুটসাল লিগে দর্শক খরা চলছেই বলা যায় মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রতিদিন ৪টি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ছেলেদের দুটি এবং মেয়েদের দুটি তবে দর্শকদের উপস্থিতি তেমন নেই বললেই চলে আবার টুর্নামেন্টের প্রচারনাও তেমন দেখা যায় না। ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দেশের ফুটসাল লিগ হচ্ছে ১১ নারী ও পুরুষ ক্লাব দল নিয়ে যা বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। বাফুফে চাইলে এর প্রচারনা বাড়াতে পারতো ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড করে। বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের অনেক ফুটবলাররা এখানে খেলছে যেমন-সাবিনা, কৃষ্ণা রানি, কিসকু, মাসুরা, সানজিদা সহ অনেকেই । টি-স্পোর্টস খেলাটি তাদের ডিজিটাল প্লাটফর্মে সরাসরি দেখাচ্ছে প্রচারনা বলতে এই পর্যন্তই। ফুটসাল লিগ বাংলাদেশ নামে একটি ফেসবুক পেইজ খোলা হলেও সেখানে পরিপূর্ণ আপডেট তথ্য পাওয়া যায়না।


