চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকে রুখে দিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেইর বিপক্ষে হার এড়িয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। গোথেনবার্গের প্রীতি ম্যাচটি দল ১-১ গোলে ড্রতে শেষ হয়েছে। পিএসজিকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ইব্রাহিম মবায়ে, আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমতা ফেরানো গোলটি করেছেন ব্রায়ান এমবুমে।

মাইকেল ক্যারিকের দলের জন্য ম্যাচের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। মাত্র দুই মিনিটেই গোল হজম করে বসে ইউনাইটেড। দ্রুত আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাছ থেকে বল জালে পাঠান মবায়ে। ম্যাচের শুরুতেই ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ইউনাইটেড।

কয়েক মুহূর্ত পরই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল পিএসজি। দূরপাল্লার শটে খভিচা কাভারাসখেলিয়া চেষ্টা করেছিলেন, তবে তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের ছন্দ খুঁজে নেয় ইউনাইটেড। আক্রমণে ক্রমেই সক্রিয় হয়ে ওঠেন নতুন তারকা এমবুমে। তাঁর একটি হেড পিএসজির রক্ষণে আটকে যায়। পরে ফ্রি-কিক থেকে গোলের চেষ্টা করেন তিনি। পিএসজি গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভ সেটি ঠেকিয়ে দেন। প্যাট্রিক ডরগুও হেড থেকে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর প্রচেষ্টাও রুখে দেন সাফোনভ। তবে ইউনাইটেডের চাপ শেষ পর্যন্ত কাজে আসে ৩২ মিনিটে।

আমাদ দিয়ালো বল বাড়িয়ে দেন এমবুমের দিকে। সুযোগ পেয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে সাফোনভকে পরাস্ত করেন তিনি। বল জালে জড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমতায় ফেরে ইউনাইটেড।

বল দখলের লড়াইয়ে ম্যান ইউ ও পিএসজির খেলোয়াড়রা

প্রথমার্ধের বাকি সময়েও আক্রমণে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন এমবুমে। তাঁর আরেকটি ফ্রি-কিক ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। কর্নার থেকে হ্যারি ম্যাগুয়ারের হেডও ঠেকিয়ে দেন সাফোনভ।

তবে প্রথমার্ধে ইউনাইটেডের জন্য স্বস্তির পাশাপাশি ছিল উদ্বেগও। ম্যাচের মাত্র ২০ মিনিটে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় মেসন মাউন্টকে। তাঁর জায়গায় মাঠে নামেন টাইলার ফ্লেচার।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচের গতি কিছুটা কমে যায়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল ইউনাইটেড। ম্যাগুয়ারের লম্বা পাস ধরে ডান দিক দিয়ে পেনাল্টি এলাকায় ঢুকে ভেতরের দিকে কাট করেন এমবুমে। এরপর দূরের ওপরের কোণে বাঁকানো শট নেন তিনি। কিন্তু দুর্দান্ত দক্ষতায় সেটি ঠেকিয়ে দেন সাফোনভ।

দ্বিতীয়ার্ধে ইউনাইটেডের হয়ে অভিষেক হয় গ্রীষ্মকালীন নতুন সংযোজন ইউরি তিয়েলেমান্সের। অল্প সময় মাঠে থাকলেও তাঁর খেলায় সম্ভাবনার ঝলক দেখা গেছে। তবে আবারও চোটের ধাক্কা খায় ইউনাইটেড। ৪৯ মিনিটে গোলরক্ষক টম হিটন মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। দলের আর কোনো অভিজ্ঞ সিনিয়র গোলরক্ষক না থাকায় তাঁর বদলি হিসেবে গোলপোস্টের দায়িত্ব নেন ডারমট মি।

দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজিও একাধিক নিয়মিত খেলোয়াড়কে মাঠে নামায়। মারকিনিয়োস, ভিতিনিয়া, নুনো মেন্দেস ও জোয়াও নেভেসের মতো তারকারা মাঠে এলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে পারেনি ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। নিজেদের পরিচিত আক্রমণাত্মক ধারও সেভাবে কাজে লাগাতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি।

প্রাক-মৌসুমের ম্যাচ হলেও ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে ইউনাইটেডের পারফরম্যান্সে স্বস্তির জায়গা থাকল। মাত্র দুই মিনিটে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরে আসা এবং শেষ পর্যন্ত ১-১ ব্যবধানে ড্র করা-ক্যারিকের দলের জন্য সেটিই আপাতত বড় প্রাপ্তি।

আর ইউনাইটেডের আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ হয়ে থাকলেন এমবুমে-একটি গোল, আরও কয়েকটি সুযোগ এবং পুরো ম্যাচজুড়ে ধারাবাহিক হুমকি দিয়ে।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles