সাকিবের ফাইনাল-সেরা বোলিংও বাঁচাতে পারল না জাফনাকে

এক পাশে সাকিব আল হাসানের বল হাতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, অন্য পাশে তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে নীরবতা। বাংলাদেশের দুই তারকা ছিলেন জাফনা কিংসের হয়ে। কিন্তু শেষ হাসিটা হাসতে পারলেন না তাঁরা। সাকিব নিজের দীর্ঘ ২০ বছরের ক্যারিয়ারে ফাইনালে সেরা বোলিং করেও দলকে শিরোপা এনে দিতে পারলেন না।

জাফনা কিংসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের ষষ্ঠ আসরের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গল গ্যালান্টস। কলম্বোয় শনিবার রাতে আগে ব্যাট করে মাত্র ১২৩ রানে অলআউট হয়ে যায় টুর্নামেন্টের সফলতম দল জাফনা। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৫ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে গল।

এটি গলের জন্য শুধু একটি শিরোপা নয়, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানও। আগের পাঁচ আসরে তিনবার ফাইনালে উঠেও ট্রফি ছুঁতে পারেনি গলের কোনো দল। ষষ্ঠ আসরে এসে অবশেষে সেই আক্ষেপ ঘুচল। ইতিহাস গড়ার রাতে অবশ্য হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশের সাকিব ও হৃদয়কে।

ফাইনালে ব্যাট হাতে সাকিবের কাছ থেকে খুব বেশি প্রত্যাশা ছিল না। সাত নম্বরে নেমে ১৩ বলে ৯ রান করেছেন তিনি। তবে বল হাতে তিনিই ছিলেন জাফনার সবচেয়ে বড় ভরসা। চার ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে নিয়েছেন দুটি উইকেট। শুধু জাফনার ব্যাটিং লাইনআপে আঘাতই করেননি, কিছু সময়ের জন্য ম্যাচে আশার আলোও জ্বালিয়েছিলেন সাকিব।

বল হাতে এসহান মালিঙ্গা

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি সাকিবের ১৭তম ফাইনাল। আর এতগুলো ফাইনালের মধ্যে এটাই তাঁর সেরা বোলিং। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের এই মাইলফলক অবশ্য ব্যক্তিগত অর্জন হয়েই রইল; দলের হাতে উঠল না ট্রফি।

এবারের এলপিএলে সাকিব চার ইনিংসে ব্যাট করে করেছেন ৪১ রান। বল হাতে ৯ ইনিংসে তাঁর শিকার ১১ উইকেট।

আগের ম্যাচগুলোতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা তাওহিদ হৃদয়ের কাছ থেকে ফাইনালেও বড় ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে চার নম্বরে নেমে ১০ বলে মাত্র ১০ রান করে ফিরে যান তিনি।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেই চাপে পড়ে জাফনা। পাওয়ার প্লের মধ্যেই হারায় দুটি উইকেট। এরপর আর ম্যাচে সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়েছে, কিন্তু রানের গতি বাড়ানোর মতো ব্যাটিংও দেখা যায়নি। ১৩তম ওভারে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে আউট হন ওপেনার কামিল মিশারা। ৩২ বলে ৪১ রান করে তিনিই হন দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

এরপর আট নম্বরে নেমে চামিন্দা উইক্রামাসিংহের ১৬ বলে ২৪ রান ছাড়া উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি আর কেউ। গলের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন চারিথ আসালাঙ্কা ও ইশান মালিঙ্গা। দুজনই নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট।

অল্প পুঁজি নিয়েও শুরুতে ম্যাচ জমিয়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছিল জাফনা। প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ সিরাজ ফেরান স্যাম হার্পারকে। পরের ওভারে ট্রাভিন ম্যাথুকে সাজঘরে পাঠান চারিথ আসালাঙ্কা। মাত্র ১০ রানে ২ উইকেট হারানোর পর থমাস রজার্স ও দিনুরা কালুপাহানা জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু নবম ওভারে বল হাতে এসে সেই প্রতিরোধ ভেঙে দেন সাকিব।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে গলও কিছুটা চাপে ছিল। কিন্তু জাফনার বোলারদের ওপর ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তারা। চামিকা করুনারত্নে করেন ১৬ রান। শাহান আরাচিগের ব্যাট থেকে আসে ১৪। এরপর অধিনায়ক দাসুন শানাকার ৯ বলে ২০ রানের ঝোড়ো ইনিংস ম্যাচের শেষ উত্তেজনাটুকুও মুছে দেয়। ২৫ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে গল গ্যালান্টস।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles