রক্তে ডোপিংয়ের দায়ে তিন বছরের জন্য অ্যাথলেটিক্স থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিডল-ডিস্ট্যান্স রানার জোনাহ কোয়েচ। অস্বাভাবিক রক্তের নমুনার মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ডোপিংয়ের প্রমাণ পাওয়ার পর এই শাস্তি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (ইউএসএডিএ)।
কোয়েচের ডোপিং শনাক্ত হয় অ্যাথলেট বায়োলজিক্যাল পাসপোর্ট (এবিপি)-এ তাঁর রক্তের মানের ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ পরিবর্তন ধরা পড়ার পর। এই ব্যবস্থায় একজন অ্যাথলেটের রক্তের বিভিন্ন মান দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলে কোনো নির্দিষ্ট ডোপিং পরীক্ষায় নিষিদ্ধ পদার্থ সরাসরি ধরা না পড়লেও রক্তের পরিবর্তনের ধরন দেখে ডোপিংয়ের সম্ভাব্য প্রমাণ শনাক্ত করা যায়।
ইউএসএডিএ জানিয়েছে, কোয়েচ নিষিদ্ধ পদার্থ অথবা নিষিদ্ধ পদ্ধতি ব্যবহারের দায় স্বীকার করে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়েছেন। তাঁর সব প্রতিযোগিতামূলক ফলও বাতিল করা হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই থেকে। একই সঙ্গে ওই সময়ের পর অর্জিত পদক, পয়েন্ট ও পুরস্কারও তাঁকে ফেরত দিতে হবে।
ডোপিংয়ের ঘটনায় সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে গত বছরের ইউএস আউটডোর চ্যাম্পিয়নশিপের ফলাফলে। পুরুষদের ১৫০০ মিটারে চমক দেখিয়ে ৩ মিনিট ৩০.১৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন কোয়েচ। তাঁর সেই সময়টি ছিল প্রতিযোগিতার নতুন রেকর্ড। তিনি পেছনে ফেলেছিলেন ইথান স্ট্র্যান্ড এবং ২০২৪ অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কোল হকারের মতো তারকাদের।

কিন্তু ডোপিংয়ের শাস্তির কারণে সেই শিরোপা এখন আর কোয়েচের থাকছে না। ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই-যেদিন তাঁর প্রথম অস্বাভাবিক রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়-সেদিন থেকেই তাঁর ফল বাতিল বলে গণ্য হবে।
কোয়েচের রক্তের নমুনা নেওয়া হয়েছিল ইউএস আউটডোর চ্যাম্পিয়নশিপের আগে ও পরে-৩০ জুলাই এবং ৮ আগস্ট। পরবর্তী সময়ে তাঁর এবিপিতে রক্তের মানে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে টোকিওতে পুরুষদের ১৫০০ মিটারের ফাইনালে ১৩তম হওয়ার পর আর কোনো প্রতিযোগিতায় দেখা যায়নি কোয়েচকে। সেই দৌড়ই আপাতত তাঁর সর্বশেষ প্রতিযোগিতা হয়ে আছে।
কেনিয়ায় জন্ম নেওয়া কোয়েচ ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্সে অংশ নেন। পরে ২০২১ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা অর্জন করেন।


