জেরার্ডের বার্তায় যশোর ক্যাম্পে হঠাৎ বিষণ্ণতা

অ্যাডাম আব্বাসের আগমনে যশোরের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের ক্যাম্পে ছিল উৎসবের আমেজ। নতুন সতীর্থকে জড়িয়ে ধরে স্বাগত জানান খেলোয়াড়েরা, পিঠ চাপড়ে দেন, অনুশীলনের মাঠও মেতে ওঠে হাসি-ঠাট্টায়। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব সামনে রেখে যখন দলটির প্রস্তুতিতে প্রাণচাঞ্চল্য, তখনই প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্সের একটি বার্তায় বদলে যায় সেই চিত্র।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইংলিশ কোচের দেওয়া বার্তার শুরুই ছিল বিষণ্ণতা আর হতাশার কথা দিয়ে। সেখানে বেতন না পাওয়ার কারণে তৈরি হওয়া আর্থিক সংকট, পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং স্ত্রী-সন্তানদের কাছে অর্থ পাঠাতে না পারার অসহায়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

যে কোচ প্রতিদিন মাঠে দাঁড়িয়ে তরুণ ফুটবলারদের স্বপ্ন দেখানোর কাজ করেন, তাকেই যখন নিজের জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলতে হয়, তখন বিষয়টি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশের ফুটবল ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
জেরার্ডের বার্তা প্রকাশের পরই ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয় আলোচনা। প্রায় দুই ঘণ্টা পর দ্বিতীয় বার্তায় অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা পরিষ্কার করেন তিনি। সেখানে ব্যাংকিং জটিলতা, রাস্তায় মানুষের কৌতূহল এবং অর্থ চাওয়ার মতো বিব্রতকর অভিজ্ঞতার কথাও জানান এই ইংলিশ কোচ।

পরিবার থেকে দূরে বাংলাদেশে কাজ করতে এসে যে একাকীত্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, জেরার্ডের বক্তব্যে সেটিও উঠে এসেছে। তবে বাংলাদেশের ফুটবলে বিদেশি কোচদের বেতন সংক্রান্ত জটিলতা নতুন কোনো ঘটনা নয়।

এর আগে ইংলিশ কোচ জেমি ডের পাওনা পরিশোধ নিয়ে বাফুফের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি গড়িয়েছিল ফিফা পর্যন্ত, জরিমানার মুখেও পড়তে হয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে। তারও আগে ডাচ কোচ লোডউইক ডি ক্রুইফের সহকারী রেনে কোস্টারের সঙ্গেও পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধে জড়িয়েছিল বাফুফে। শেষ পর্যন্ত সেই ঘটনায় ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছিল ফেডারেশনকে।

জেরার্ডের সাম্প্রতিক বার্তা তাই বাংলাদেশের ফুটবলে বিদেশি কোচদের পারিশ্রমিক ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে পুরনো প্রশ্নগুলোই আবার সামনে এনেছে।

তবে পরিস্থিতির মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন জেরার্ড। তিনি জানিয়েছেন, কোনো ধরনের জটিলতা বা ভয় ছাড়াই তরুণ ফুটবলারদের গড়ে তোলার কাজে মনোযোগ দিতে চান।

যশোরে এখনো চলছে অনূর্ধ্ব-২০ দলের ক্যাম্প। সামনে উজবেকিস্তান, সিরিয়া ও ভারতের বিপক্ষে কঠিন বাছাইপর্ব। অ্যাডাম আব্বাসকে ঘিরে সতীর্থদের উচ্ছ্বাস আর নতুন স্বপ্নের সেই পরিবেশের মধ্যেই এখন প্রশ্ন, কোচের তৈরি হওয়া এই অস্থিরতা কতটা প্রভাব ফেলবে দলের প্রস্তুতিতে?

মাঠে যখন তরুণদের চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন, তখন সেই মাঠের বাইরের অনিশ্চয়তার ছায়া কতটা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles