বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে আবারও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে ফিরছে অস্ট্রেলিয়া। ঘরের মাঠে সিরিজ হওয়ায় স্বাগতিকদের পরিষ্কার ফেবারিট ধরা হলেও অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ এড়িয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে মনোযোগ ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ট্রাভিস হেড।
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শুরু হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের পয়েন্ট শতাংশ ৮৭.৫।
ঘরের মাঠের সুবিধা এবং বাংলাদেশের সফরের শুরুটা ভালো না হওয়ায় দুই টেস্টের সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে। সফরের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ায় টাইগারদের পারফরম্যান্স নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি আলোচনা।
তবে এসব নিয়ে মাথা ঘামাতে চান না ট্রাভিস হেড। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি ব্যাটার মনে করছেন, অতিরিক্ত প্রত্যাশা অনেক সময় পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে হেড বলেন, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্টের জন্য খেলা হওয়ায় এই সিরিজ ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই অনেক নজর থাকবে। তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেললে প্রত্যাশার চাপ থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো দলের বিপক্ষে নামার সময় নিজের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি করাটাও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
হেডের মতে, ক্রিকেট অত্যন্ত কঠিন একটি খেলা। তাই আগামী দুই টেস্টে নিজেদের প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণে রেখে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলাই হবে গুরুত্বপূর্ণ।
ঘরের মাঠে অভিষেকের অপেক্ষায় ওয়েদারাল্ড
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ইনিংস উদ্বোধন করবেন ট্রাভিস হেড ও জেক ওয়েদারাল্ড। সিরিজের প্রথম টেস্টটি ওয়েদারাল্ডের জন্য হতে যাচ্ছে বিশেষ এক মুহূর্ত। ডারউইনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটারের এটিই হবে নিজের শহরে প্রথম টেস্ট।
নিজ শহরের দর্শকদের সামনে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগকে গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন ওয়েদারাল্ড। একই সঙ্গে নিজের এলাকার মানুষের সামনে ভালো করতে না পারলে বাড়তি সমালোচনার মুখে পড়তে হবে বলেও মজা করে জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ সিরিজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ক্যারিয়ারকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
অ্যাশেজের পর উন্নতির লক্ষ্য ওয়েদারাল্ডের
গত গ্রীষ্মের অ্যাশেজ সিরিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল ওয়েদারাল্ডের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের পুরো সিরিজেই খেলেছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া সিরিজটি ৪-১ ব্যবধানে জিতলেও ওয়েদারাল্ডের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স অনুজ্জ্বল। ১০ ইনিংসে ২২.৩৩ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ছিল ২০১ রান।
এরপর নিজের ব্যাটিংয়ে উন্নতি করতে কাজ করেছেন তিনি। ইংল্যান্ডের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে লেস্টারশায়ারের হয়ে ছয় ম্যাচে ৪৮৩ রান করেছেন ওয়েদারাল্ড। তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল অসাধারণ ৬০.৩৭।
কাউন্টি ক্রিকেটে নিজের শক্তির জায়গাগুলো আরও ভালোভাবে বোঝার পাশাপাশি কোথায় উন্নতি করা প্রয়োজন, সেদিকেও কাজ করেছেন তিনি। অ্যাশেজের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু পরিবর্তন এনে আরও কার্যকর ব্যাটিং পরিকল্পনা তৈরি করেছেন বলে জানিয়েছেন এই ওপেনার।
ওয়েদারাল্ড বলেন, ব্যাটিংয়ের প্রস্তুতি ও সেটআপে কিছু পরিবর্তন এনেছেন তিনি। তবে নিজের স্বাভাবিক খেলায় বড় কোনো পরিবর্তন আনতে চাননি। বরং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যেসব জায়গায় তিনি ভালো করেন, সেগুলো আরও কার্যকর করার পাশাপাশি দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করেছেন।
হেডের নেতৃত্বে ওপেনিং জুটি
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শুরু করবেন ট্রাভিস হেড ও জেক ওয়েদারাল্ড। অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হেড আবারও ওপেনিংয়ে ফিরছেন।
বাংলাদেশ সিরিজের আগে হেড নিজেও প্রত্যাশার চাপ সামলে স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলার ওপর জোর দিয়েছেন। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই দুই টেস্টে অস্ট্রেলিয়া যে কোনো ধরনের আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চায় না।
দুই টেস্টের সূচি
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। ম্যাচটি চলবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত।
দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ থেকে ২৬ আগস্ট, ম্যাকের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়।
অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড
প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স ক্যারি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, মার্নাস লাবুশেন, নাথান লায়ন, স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, জেক ওয়েদারাল্ড ও বিউ ওয়েবস্টার।
বাংলাদেশ স্কোয়াড
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, শাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, আমিত হাসান, জাকের আলী, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন চৌধুরী ও মুশফিক হাসান।


