দীর্ঘ ৩১ বছরের অপেক্ষা অবশেষে শেষ হলো ব্রাজিলের। দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ-এ প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে দেশটির পুরুষ ক্রিকেট দল। স্থানীয় সময় রোববার কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে পানামাকে মাত্র ৩ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে ব্রাজিল।
১৯৯৫ সালে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় আগের ১৯ আসরে অংশ নিয়েও শিরোপা জিততে পারেনি ব্রাজিল। দু’বার অবশ্য খুব কাছে গিয়েছিল তারা। ২০০৪ সালে ফাইনালে গায়ানার কাছে হারের পর ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হয়ে রানার্সআপ হয় দলটি। এবার আর হতাশ হতে হয়নি।
ফাইনালে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৮ রান সংগ্রহ করে ব্রাজিল। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন ওপেনার উইলিয়াম ম্যাক্সিমো। অধিনায়ক মিশেল আসুনসাও যোগ করেন ৩০ রান।
জবাবে লক্ষ্য তাড়ায় শেষ পর্যন্ত জয়ের খুব কাছে পৌঁছে যায় পানামা। তবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১২৫ রানের বেশি করতে পারেনি তারা। ফলে মাত্র ৩ রানের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল।
ফাইনালে ব্যাট ও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ব্রাজিল অধিনায়ক আসুনসাও। ব্যাট হাতে ৩০ রানের পর বল হাতে ১৯ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।
ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের পর ব্রাজিল ক্রিকেটে উচ্ছ্বাসের আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসানকে দেশটির ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবেই এই সাফল্যকে দেখা হচ্ছে।
পুরুষদের দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে অবশ্য সবচেয়ে সফল দল আর্জেন্টিনা। ২০ আসরের মধ্যে ১২ বার শিরোপা জিতেছে তারা। তবে সর্বশেষ দু’টি আসরে আর্জেন্টিনা দল পাঠায়নি।

অন্যদিকে মেয়েদের প্রতিযোগিতায় ব্রাজিলের সাফল্য আরও উল্লেখযোগ্য। আর্জেন্টিনার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ সাতবার দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল নারী ক্রিকেট দল।
তবে এবার পুরুষদের ক্রিকেটেও ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিল ব্রাজিল। ৩১ বছরের অপেক্ষা শেষে প্রথমবার দক্ষিণ আমেরিকার সেরা হওয়ার স্বাদ পেল দেশটির পুরুষ ক্রিকেট দল।


