জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ এশিয়ান গেমসের জন্য ১৫ সদস্যের ক্রিকেট দল ঘোষণা করেছে আফগানিস্তান। বেশিরভাগই তরুণ ও অনভিজ্ঞ ক্রিকেটার নিয়ে গড়া এই দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে টপ অর্ডার ব্যাটার দারবিশ রাসুলি-কে। দলে রাখা হয়েছে ছয়জন আনক্যাপড ক্রিকেটারকে, অর্থাৎ যারা এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের সুযোগ পাননি। এ ছাড়া আরও পাঁচজন ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে ১০টিরও কম।
আফগানিস্তানের এবারের দলটিতে অভিজ্ঞতার জায়গায় মূল ভরসা থাকবেন অধিনায়ক রাসুলি, করিম জানাত ও নাজিবউল্লাহ জাদরান। তাদের সঙ্গে একমাত্র অন্য ক্রিকেটার হিসেবে ১০টির বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে নাঙ্গেলিয়া খারোতে-র। এশিয়ান গেমসে আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণের নেতৃত্ব দেয়ার কথা রয়েছে তার।
শাপাগিজা লিগের পারফরমারদের সুযোগ
এশিয়ান গেমসের দল নির্বাচনে আফগানিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা শাপাগিজা ক্রিকেট লিগের (এসসিএল) পারফরম্যান্সকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে যারা সাম্প্রতিক সময়ে ভালো করেছেন, তাদের বেশ কয়েকজনকে জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ শাপাগিজা ক্রিকেট লিগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন মোহাম্মদ আকরাম। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে এশিয়ান গেমসের দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি।
একই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের মালিক খালিদ তানিওয়ালকেও দলে নেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তোলার সামর্থ্য থাকা তরুণদের ওপরও আস্থা রেখেছে আফগানিস্তান।
টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার পেয়েই জাতীয় দলে ইসমাত
দলে জায়গা পেয়েছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার ইসমাত আলম। আফগানিস্তানের হয়ে ইতোমধ্যে দুটি টেস্ট খেলেছেন তিনি। তবে এবারের দলে জায়গা পাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে শাপাগিজা ক্রিকেট লিগে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স।
সর্বশেষ এসসিএলে ২৯৪ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ৯ উইকেট। ব্যাটিংয়ে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬৮, আর বোলিং গড় ১৬ দশমিক ৭৭। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের জন্য টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কারও জিতেছেন ইসমাত।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের নায়কও দলে
দলে সুযোগ পেয়েছেন ফয়সাল শিনোজাদা, যিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন। তরুণ এই ব্যাটারের ওপরও আস্থা রেখেছে আফগানিস্তান।
এ ছাড়া দলে আছেন আফগানিস্তানের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর ছেলে হাসান ঈসাখাইল। তার জন্য এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।
শ্রীলঙ্কায় আলো ছড়ানো ফারমানউল্লাহও দলে
পেস বোলিং বিভাগে বড় ভরসা হয়ে উঠতে পারেন ফারমানউল্লাহ। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত একদিনের ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ ও ভারত ‘এ’-এর বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন তিনি।
সেই প্রতিযোগিতায় ১০ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন ফারমানউল্লাহ। তার সেই পারফরম্যান্সের পুরস্কারও পেলেন এশিয়ান গেমসের দলে জায়গা করে নিয়ে।
স্পিনে খারোতে, সঙ্গে আরব গুল
আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণের মূল দায়িত্ব থাকবে নাঙ্গিয়ালিয়া খারোতের ওপর। তার সঙ্গে দলে থাকা আরেকজন মূল স্পিনার হলেন লেগস্পিনার আরব গুল মোমান্দ।
অন্যদিকে পেস আক্রমণে ফারমানউল্লাহর সঙ্গে থাকবেন আবদুল্লাহ আহমাদজাই ও ফরিদুন দাউদজাই। অলরাউন্ডার ইসমাত আলম ও করিম জানাতও দলের পেস বোলিং বিকল্প হিসেবে থাকছেন।
অর্থাৎ তুলনামূলক তরুণ ও অনভিজ্ঞ দল হলেও আফগানিস্তান ব্যাটিং, স্পিন, পেস ও অলরাউন্ডার—সব বিভাগেই ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছে।
এশিয়ান গেমসে আফগানিস্তানের লক্ষ্য
২০২৬ এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হবে জাপানের আইচি-নাগোয়ায়। প্রতিযোগিতা চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত।
এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে এবার আফগানিস্তান যে দল পাঠাচ্ছে, সেখানে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সংখ্যা কম। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করা তরুণদের সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতের জাতীয় দলের জন্যও একটি ভিত্তি তৈরি করতে চাইছে তারা।
অধিনায়ক দারবিশ রাসুলি, অভিজ্ঞ নাজিবউল্লাহ জাদরান ও করিম জানাতের পাশাপাশি শাপাগিজা লিগের সফল ক্রিকেটাররা দলটির নেতৃত্ব দেবে। বিশেষ করে ইসমাত আলম, মোহাম্মদ আকরাম, খালিদ তানিওয়াল ও ফারমানউল্লাহর মতো ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের ওপর নজর থাকবে।
এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর জন্য আফগানিস্তান দল
দারবিশ রাসুলি (অধিনায়ক), মোহাম্মদ ইসহাক (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ আকরাম, হাসান ঈসাখাইল, খালিদ তানিওয়াল, ইমরান মির, ফয়সাল শিনোজাদা, নাজিবউল্লাহ জাদরান, ফারমানউল্লাহ, ইসমাত আলম, করিম জানাত, নাঙ্গেলিয়া খারোতে, আরব গুল মোমান্দ, ফরিদুন দাউদজাই ও আবদুল্লাহ আহমাদজাই।


