টানা হারের হতাশা, রক্ষণভাগের দুর্বলতা আর সাম্প্রতিক ব্যর্থতার ভার নিয়ে ফিলাডেলফিয়ায় নেমেছিল ইন্টার মায়ামি। ম্যাচের শুরুটাও ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। কিন্তু যখন দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন আবারও সামনে এলেন লিওনেল মেসি। এক গোল এবং দারুণ এক আক্রমণ তৈরির মধ্য দিয়ে আর্জেন্টাইন মহাতারকা মায়ামিকে টেনে তুললেন কঠিন পরিস্থিতি থেকে।
জয় আসেনি, কিন্তু লিওনেল মেসির আলো ছড়ানো থামেনি। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে ইন্টার মায়ামি। ম্যাচটিতে দুই দলকেই একটি করে লাল কার্ড দেখতে হয়েছে।
বুধবার রাতে সুবাড়ু পার্কে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। ম্যাচের ১১ মিনিটেই সাবেক মায়ামি ফরোয়ার্ড ইন্ডিয়ানা ভাসিলেভের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। পিছিয়ে পড়ে চাপে পড়ে মায়ামি।
তবে খুব দ্রুতই ম্যাচে ফেরে সফরকারীরা। মেসির উঁচু করে বাড়ানো বল ফিলাডেলফিয়ার রক্ষণ পেরিয়ে পৌঁছায় লুইস সুয়ারেজের কাছে। উরুগুইয়ান তারকার হেড থেকে বল যায় তরুণ ড্যানিয়েল পিন্টারের সামনে। সহজ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতা ফেরান ১৯ বছর বয়সী পিন্টার। এটি ছিল মায়ামির দ্বিতীয় দল থেকে মূল দলে উঠে আসা এই তরুণের মেজর লিগ সকারে প্রথম গোল।
সমতা ফেরানোর পাঁচ মিনিট পরই মঞ্চ নিজের করে নেন মেসি। ছোট জায়গার মধ্যে তিন ডিফেন্ডারের চাপ এড়িয়ে বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান তিনি। মুহূর্তেই নীরব হয়ে যায় গ্যালারিভর্তি দর্শক।

বিশ্বকাপ বিরতির পর এটি ছিল মেসির প্রথম গোল। একই সঙ্গে বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর দুই সপ্তাহ পর মাঠে ফিরে এটি তাঁর প্রথম গোল। ব্যক্তিগত শোকের সময়েও দলের জন্য এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে মেসি যেন আবারও নিজের অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিলেন।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৩-তে। গোলদাতাদের তালিকায় তিনি দ্বিতীয় স্থানে থাকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে যৌথভাবে অবস্থান করছেন।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে আবারও উত্তেজনা ফেরায় ফিলাডেলফিয়া। ৫৮ মিনিটে মুক্ত কিক থেকে আসা বলে মিলান ইলোস্কির ক্রসে কাছ থেকে হেড করে গোল করেন ১৮ বছর বয়সী হাইতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ডিফেন্ডার নিল পিয়ের। ম্যাচে ফিরে আসে সমতা।
বিশ্বকাপ বিরতির পর তিন ম্যাচে টানা হারের মুখ দেখা মায়ামির জন্য এই ম্যাচে মেসির গোল তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, দলের আত্মবিশ্বাস ফেরানোরও বড় বার্তা। আগস্টে পাঁচ ম্যাচে ১৩ গোল হজম করা মায়ামি যখন নিজেদের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে, তখনও একটি সত্য বদলায়নি-মেসিকে থামানোর পরিকল্পনা করা যায়, কিন্তু তাঁকে পুরোপুরি থামানো যে কত কঠিন, ফিলাডেলফিয়ার রাতটি আবারও তার প্রমাণ দিল।
চলতি মেজর লিগ সকার মৌসুমেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন মেসি। ১৭ ম্যাচে তাঁর গোল ১৩টি, সহায়তা ৮টি। সতীর্থদের জন্য ৪৬টি গুরুত্বপূর্ণ পাস দিয়েছেন এবং তৈরি করেছেন ১৫টি বড় গোলের সুযোগ।


