৫৯ বছর বয়সে গোল করে , ইতিহাস গড়লেন জাপানের ‘কিং কাজু’

কিং কাজুর বয় ৫৯ বছর ১৪৯ দিন।

কিং কাজুর আসল নাম কাজুইউশি মিউরা। কাজু ফুটবল খেলেই চলেছেন থামার নাম নেই। প্রতিনিয়ত লিখছেন নতুন ইতিহাস। এবার জাপানের এমপেরর’স কাপে জোড়া গোল করে রেকর্ড গড়লেন জাপানের জাতীয় দলের সাবেক এই ফুটবলার। ৫৯ বছর বয়সে গোল করে ইতিহাস গড়েছেন ‘কিং কাজু’।

জাপানের এমপেরর’স কাপে গোল করে টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা হয়েছেন তিনি। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এটিই সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলের রেকর্ড। বর্তমানে পেশাদার ফুটবলে নিজের ৪২তম মৌসুম খেলছেন মিউরা। বুধবার ফুকুশিমা ইউনাইটেডের হয়ে ওয়ামা সকার ক্লাবের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন তিনি। তবে দুটি গোলই এসেছে পেনাল্টি থেকে।

কিং কাজুর জোড়া গোলে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে ফুকুশিমা সেই সাথে এমপেরর’স কাপের প্রথম রাউন্ড থেকে ২য় রাউন্ডেও উঠেছে তার দল।

কাজুইউশি মিউরার আগে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলের রেকর্ড করেছিলেন জাপানের সাবেক মিডফিল্ডার শিনজি ওনো। ৪১ বছর বয়সে এমপেরর’স কাপে গোল করেছিলেন ওনো। এবার ৫৯ বছর বয়সে গোল করে সেই রেকর্ড ভেঙেছেন কিং কাজু। ৪ বছর পর গত মাসে প্রতিযোগিতাটির বাছাইপর্বেও গোল করেছিলেন মিউরা। তবে এবার গোল পেলেন মূল পর্বে।

কাজুইউশি মিউরা কিং কাজু

রহস্যময় ফুটবলার: এত বয়সে খেলা এবং রেকর্ড গড়া নিয়ে জিজ্ঞেস করলে মিউরা বলেন নিয়মিত অনুশীলনই তার সাফল্যের রহস্য। আর পেনাল্টির অনুশীলন তিনি নিয়মিত করতেন। তিনি বলেন ‘কখন সুযোগ আসবে, কেউ জানে না। তাই আমি সব সময় পেনাল্টির অনুশীলন করি। কাজে লাগাতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।’

১৯৬৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাপানের শিজুওকায় জন্ম মিউরার। কিশোর বয়সেই ফুটবল খেলতে ব্রাজিলে পাড়ি জমান তিনি। ১৯৮৬ সালে সান্তোসের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক।

কিং কাজু জাপান জাতীয় দলের হয়েও দীর্ঘদিন খেলেছেন। ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ৮৯ ম্যাচে করেছেন ৫৫ গোল। ২০১২ সালে জাপানের হয়ে ফুটসাল বিশ্বকাপেও অংশ নিয়েছিলেন মিউরা।

সারকথা: ‘প্র্যাকটিস মেক এ ম্যান পারফেক্ট’ সত্যি কিং কাজুর জন্য যেন এই কথাই সত্যি হল। আসলে মনের জোর বলে কথা, পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীল করে শরীর ফিট রেখে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তা থেকে তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে সকল বয়সী মানুষ মনে করতে পারেন বয়স আসলেই দুই ডিজিটের একটা সংখ্যা মাত্র।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles