অস্ট্রেলিয়া সিরিজে লিটনের 0 0 0

অস্ট্রেলিয়া সফরে দুঃসময় যেন পিছু ছাড়ছে না লিটন দাসের। পায়ের চোটের কারণে প্রথম ঘোষিত স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তাঁর। পরে দ্রুত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করে দলে ফেরানো হয় তাঁকে। কিন্তু মাঠে ফিরে এখন পর্যন্ত হতাশই করেছেন এই ব্যাটার। দুই টেস্টে তিন ইনিংস খেলেছেন, প্রতিবারই ফিরেছেন শূন্য রানে।

ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১২ বল খেলে মিচেল স্টার্কের বলে আউট হয়েছিলেন লিটন। ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসেও ৫ বল খেলে একই বোলারের শিকার হন তিনি। আজ দ্বিতীয় ইনিংসেও স্টার্কের কাছেই ফিরলেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার।

ম্যাকাই টেস্টের দ্বিতীয় দিনের ২৩তম ওভারে নিজের প্রথম বল খেলেন লিটন, বোলার স্টার্ক। ছয় বলের সেই ওভারে বেশ অস্বস্তিতেই ছিলেন তিনি। এর আগে স্টার্কের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ নিয়েছিলেন বেউ ওয়েবস্টার। ৪৬ বলে ৬ চারে ৩১ রান করে আউট হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দলীয় ৫১ রানে বাজে শট খেলে স্টার্কের সহজ ক্যাচ হন তিনি।

এরপর মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি বাঁধেন লিটন। তবে সেই জুটিও বেশিক্ষণ টেকেনি। লিটন মোট ১০টি বল খেলেছেন স্টার্কের। প্রথম ৯ বল কোনোভাবে সামলে নিলেও দশম বলে তৃতীয় স্লিপে ওয়েবস্টারের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। তাতেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজে তিন ইনিংসে তিনটি শূন্য নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো লিটনকে।

দিনের প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩৯ রান। মুশফিক ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার ২১০ রানের জবাবে ১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করেছিল বাংলাদেশ।

শুরু থেকেই স্টার্কের তোপে পড়ে সফরকারীরা। তৃতীয় ওভারে টানা দুই বলে দুই উইকেট তুলে নেন অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি পেসার। প্রথমে সাদমান ইসলামকে ১ রানে পয়েন্টে মার্নাস লাবুশেনের ক্যাচ বানান। পরের বলেই মুমিনুল হকের অফস্টাম্প উপড়ে দেন তিনি। ৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর অধিনায়ক শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। নবম ওভারে স্টার্ককে টানা দুটি চারও মারেন তিনি। প্রায় একশ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে দলের রানের গতি বাড়াচ্ছিলেন শান্ত। তবে তাঁকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি তানজিদ হাসান তামিম।

অষ্টম ওভারে প্যাট কামিন্সের বলে বাউন্ডারির কাছে স্টার্কের হাতে ক্যাচ দেন তানজিদ। ৩৪ বলে ৯ রান করে থামেন তিনি। ডারউইনে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করার পর টানা দুই ইনিংসে ডাক মেরেছিলেন তানজিদ। এবার রানের খাতা খুললেও দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ইতিহাস গড়েছেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে টেস্টে কোনো বাংলাদেশি পেসারের সেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়েছেন তিনি। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়েই অস্ট্রেলিয়া ২১০ রানে অলআউট হয়। এর আগে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায়।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles