ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার মেঘের মধ্যে একাই বিদ্যুতের ঝলক শরিফুল ইসলাম। আশার আলো তিনি। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস গুটিয়ে দিতে সাত উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের পেস বোলিং ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছেন বাঁহাতি এই পেসার। তবে তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও ম্যাচের প্রথম ইনিংসে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস মাত্র ৬৪ রানে শেষ হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়াও অবশ্য ব্যাট হাতে খুব স্বস্তিতে ছিল না। শরিফুলের দুর্দান্ত পেস ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থামে ২১০ রানে। ফলে প্রথম ইনিংস শেষে ১৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
প্রথম দিনের শেষে শরিফুল ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছিলেন; পরে ইনিংসের নবম উইকেটটি তুলে নিয়ে নিজের কীর্তিকে আরও উঁচুতে নিয়ে যান।
এই সাত উইকেট বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে একজন পেসারের সেরা বোলিং। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৭ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন শাহাদাত হোসেন। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বাংলাদেশের পেসারদের সেরা ইনিংস বোলিংয়ের রেকর্ডটি ছিল তাঁর দখলে। ম্যাকাইয়ে সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন শরিফুল।
রেকর্ডের তালিকায় আরও একটি বিশেষ অর্জন যোগ হয়েছে তাঁর নামের পাশে। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সেরা ইনিংস বোলিং ফিগার এখন শরিফুলের। দুই মাস আগে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সাত উইকেট নিয়ে সেই কীর্তির পাশে নিজের নাম বসালেন শরিফুল।

বাংলাদেশের জন্য অবশ্য স্বস্তির জায়গা শুধু শরিফুলের রেকর্ড। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার খেসারত বড় লিড দিয়ে দিতে হয়েছে। এখন দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সামনে কঠিন পরীক্ষা। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দলটিকে ম্যাচে ফিরতে হলে ব্যাট হাতে দেখাতে হবে অসাধারণ ধৈর্য ও প্রতিরোধ। ম্যাকাইয়ের পেস-সহায়ক উইকেটে বিষয়টি কঠিন বটে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৬৪/১০ (৩৪ ওভার)। (শরিফুল ১৪, মিরাজ, ১১, তাইজুল ১১* ও হাসান ১০; স্টার্ক ৬/১২, কামিন্স ৩/২৫)।
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ২১০/১০ (৫২.৩ ওভার)। (গ্রিন ৬৭, স্মিথ ৪২, নাথান লায়ন ৩২*, হেড ২২; শরিফুল ৭/৪৮)।


