এশিয়ান গেমসের হকি দল চূড়ান্ত, প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমসের জন্য বাংলাদেশের ১৮ সদস্যের চূড়ান্ত হকি দল ঘোষণা করা হয়েছে। অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমি ও পুষ্কর খিসা মিমোকে রেখে দল সাজিয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। তবে দল চূড়ান্ত হলেও মাঠের প্রস্তুতি নিয়ে এখনো কাটেনি অনিশ্চয়তা। বিদেশের মাটিতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা থাকলেও ভিসা জটিলতায় আটকে আছে সেই উদ্যোগ।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অনুষ্ঠিত হবে ২০তম এশিয়ান গেমস। হকিতে বাংলাদেশের অভিযান অবশ্য শুরু হবে এক দিন আগেই। ১৮ সেপ্টেম্বর পুল ‘এ’তে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এরপর একই গ্রুপে ভারতের পাশাপাশি স্বাগতিক জাপান, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষেও মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

আগস্টের শুরুতে জার্মান কোচ পিটার রাচ গেরহার্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩৪ সদস্যের প্রাথমিক দল থেকে খেলোয়াড় বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৯ আগস্ট দলটি কমিয়ে করা হয় ২৪ জনে। এরপর সেখান থেকে চূড়ান্ত করা হয়েছে ১৮ সদস্যের দল।

এই দলে জায়গা পেয়েছেন দেশের হকির দুই অভিজ্ঞ মুখ রাসেল মাহমুদ জিমি ও পুষ্কর খিসা মিমো। আগের অ্যাডহক কমিটির সময় প্রাথমিক দলেই রাখা হয়নি এই দুই তারকাকে। পরে নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩ আগস্ট তাদের প্রাথমিক দলে ডাকা হয়। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত দলেও জায়গা ধরে রেখেছেন তারা।

চার দিনের বিরতির পর শুক্রবার আবারও অনুশীলনে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। জার্মান কোচ গেরহার্ড দেশের বাইরে থাকায় কয়েক দিনের জন্য অনুশীলনে বিরতি ছিল। তবে অনুশীলন শুরু হলেও প্রস্তুতি ম্যাচের পরিকল্পনা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

বাংলাদেশের প্রস্তুতির মূল পরিকল্পনা ছিল জার্মানিতে গিয়ে কয়েকটি ম্যাচ খেলা। কিন্তু জার্মানির ভিসা না পাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ভিসা জটিলতা কাটাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নেওয়া হলেও এখনো জার্মান ভিসার সবুজ সংকেত মেলেনি।

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও নির্বাচক কমিটির সদস্য আরিফুল হক প্রিন্স জানিয়েছেন, জার্মান দূতাবাস বর্তমানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়াকরণে ব্যস্ত থাকায় বাংলাদেশের ভিসা পেতে দেরি হচ্ছে। রোববার পর্যন্ত তারা জার্মানির ভিসার জন্য অপেক্ষা করবেন। এরপরও যদি ইতিবাচক কোনো বার্তা না আসে, তাহলে বিকল্প পরিকল্পনায় যাবে বাংলাদেশ।

বিকল্প হিসেবে ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে হকি ফেডারেশন। সেখানে চীনের জাতীয় দলের বিপক্ষে ছয়টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জার্মানি সফর সম্ভব হলে সর্বোচ্চ নয়টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু সেই সফর বাতিল হলে চীনই হতে পারে বাংলাদেশের প্রস্তুতির প্রধান গন্তব্য।

শুধু চীনে ম্যাচ খেলা নয়, সেখান থেকে জাপানে যাওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। জার্মানি সফর বাতিল হলে চীন হয়ে এশিয়ান গেমসের ভেন্যু জাপানে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে ফেডারেশন। তবে এই পরিকল্পনাও নির্ভর করছে কিছু প্রশাসনিক অনুমোদন ও অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের ওপর।

জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ড, জিমি, মিমো এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে আরিফুল হক প্রিন্স, সাজেদ এএ আদেল ও মিজানুর রহমান ডনের জন্য মোট ছয়টি অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড প্রয়োজন। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের পরিবর্তনের প্রস্তাবে অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া সম্মতি দেওয়ার পর নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন।

এশিয়ান গেমসের পর ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছিলেন মিমো। এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, গেমসের পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। একইভাবে হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তারাও দীর্ঘদিনের তারকা জিমিকে এশিয়ান গেমসের পর অবসরের কথা ভাবতে বলেছিলেন।

তবে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। ১২ দলের এশিয়ান গেমস হকি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ যদি পঞ্চম বা ষষ্ঠ স্থান অর্জন করতে পারে, তাহলে ডিসেম্বরের একটি বহুজাতিক টুর্নামেন্টে জিমি ও মিমোর খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে নতুন কৃত্রিম হকি টার্ফের উদ্বোধন উপলক্ষে ওই টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এশিয়ান গেমসের জন্য বাংলাদেশের চূড়ান্ত ১৮ সদস্যের দলে রয়েছেন; বিপ্লব কুজুর, আশরাফুল হক শাদ, আশরাফুল ইসলাম, হোজাইফা হোসেন, আমিরুল ইসলাম, রেজাউল করিম বাবু, রোমান সরকার, শহীদুর রহমান সাজু, ওবিদুল হোসেন জয়, দীন ইসলাম ইমন, খালেদ মাহমুদ রাকিন, পুষ্কর খিসা, সোহানুর রহমান সবুজ, ফারহাদ আহমেদ শেতুল, মাহবুব হোসেন, মাইনুল ইসলাম কৌশিক, রাসেল মাহমুদ জিমি ও রাকিবুল হাসান রকি।

দল চূড়ান্ত হলেও এখন বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ মিলবে কি না!

এশিয়ান গেমসে পুল ‘এ’তে শক্তিশালী ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। তাই মূল প্রতিযোগিতার আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচের ঘাটতি পূরণ করাই এখন কোচ গেরহার্ড ও হকি ফেডারেশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles